সহীহ হাদিস কাকে বলে – হাদিস সহিহ হওয়ার 5 টি শর্ত?

সহীহ হাদিস

সহীহ হাদিস – সহীহ হাদিস হলো শুদ্ধ হাদিস। অত্যন্ত সৎ ও সুযোগ্য রাবিদের বর্নিত হাদিস কেই সহীহ হাদিস বলা হয়। নবী করিম (সঃ) এর মুখের বানি ও কোনো কাজকে সম্মতি দেওয়া এবং কোন কাজ কে সাহাবি গন করেছেন তা দেখে নিষেধ না করা তথা মনো সম্মতি দেওয়া এগুলো কে হাদিস বলা হয়। নবী করিম সঃ যে কাজ করেছেন এবং যে কথা বলেছেন সব কিছুই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। হাদিস ভিদগন হাদিস কে অনেক ভাগে বিভক্ত করেছেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো সহীহ হাদিস। আর রাবিদ বলা হয় যারা হাদিস বর্ননা করেছেন তাদের কে। সু্যোগ্য রাবিদ গনের হাদিস ছাড়া অন্য কোন হাদিস কে সহীহ হাদিস বলা হয় না। তবে এর মধ্যে ও অনেক যাচাই বাছাই করা হয়েছে।

আজকে আমরা সহীহ হাদিস সম্পর্কে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ, সহীহ হাদিস কি? কোথা থেকে এশেছে?  সহীহ হাদিস গুরুত্ব কি?  সহীহ হাদিসের আমোল ইত্যাদি সম্পর্কে আজকে বিস্তারিত আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

সহীহ হাদিস কী

সহীহ শব্দের অর্থ হচ্ছে শুদ্ধ আর হাদিস হলো নবী করিম (সঃ) এর মুখের বানি। নবী করিম সঃ এর কাজ, সহাবি গনের কাজের সম্মতি কোন কাজ দেখে তার সম্মতি দেওয়া এগুলোই হলো হাদিস। আজকের আলোচ্য বিষয় হলো সহীহ হাদিস সম্পর্কে। এর উপর আমল করার গুরুত্ব সম্পর্কে।

বাংলা হাদিস – ১০ টি বাংলা অনুবাদ সহিহ হাদিস

সহীহ হাদিস কি?  অত্যন্ত সৎ ও সুযোগ্য রাবিদের বর্নিত অবিছিন্ন সনদ সম্ভলিত মুত্তাসিল হাদিস কে সহীহ হাদিস বলা হয়। উলুমুল হাদিসের পরিভাষায় সহীহ বলা হয় ঐ হাদিস কে যে, হাদিসের বর্ননা কারিরা আদিল বা ন্যায়পরায়ন ও পূর্ণ আয়াত্তশক্তির অধিকারি হন এবং সনদটি শায বা ত্রুটি পূর্ণ নয়। তাকেই সহীহ হাদিস বলা হয়।

হাদিস শুদ্ধ হওয়ার শর্ত

হাদিস সহীহ তথা শুদ্ধ হওয়ার পাঁচ টি শর্ত রয়েছে।

১- সনদ মুত্তাসিল হওয়া তথা হাদিস যে বর্ননা করেছেন সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতি স্তরে বর্ননা কারির পতন না হওয়া। তথা সকল স্তরে বর্ননা কারির উপস্থিত থাকা। অর্থাৎ যে হাদিস টি বর্ননা করেছেন সে যেন তার চোখে দেখা বা তার কানে শোনা ব্যতিত না বলা।

২- হাদিস বর্ননা কারির পুরো পুরি আয়ত্তশক্তির অধিকারি হওয়া। তথা তাহার মুখস্ত বিদ্যা কঠোর থাকা। তবে সে যদি কোন কিছুতে লিখে সংগ্রহ করে রাখে তাহলেও তা গ্রহণ যোগ্য। যদি আয়ত্ত শক্তি দুর্বল থাকে আর সে হাদিস টি বর্ননা করে তাহলে সে হাদিস কে বলা হয় গরিব হাদিস তাকে সহীহ হাদিসের মধ্যে নেওয়া হয় না।

৩- বর্ণনা কারি গনের ন্যায়পরায়ন থাকা। তথা বর্ননা কারি গনের মধ্যে এমন যোগ্যতা থাকা যা তাদের তাকওয়া  অর্জন ও ভদ্রতা এবং ব্যক্তিত্ব অনুসরণে অনুপ্রাণিত করে। অর্থাৎ তাদের কে হতে হবে তাকওয়া বান এবং ব্যক্তিত্ব বান যাদের কে দেখে মানুষ অনুসরণ করতে পারবে।

৪- হাদিসের সনদটি শায না হওয়া। হাদিসের সনদটি যাদি শায হয় তাহলে এই হাদিস বর্ননা কারি রাবিদের চেয়ে বেশি রাবিদ গন তার বিরোধিতা করেন।

জানাজার নামাজের নিয়ম ও বিস্তারিত জেনে নিন ১ পোষ্টে

৫-সহীহ হাদিসের সনদের মধ্যে কোন ইল্লত তথা কোন দোষ বা ত্রুটি না থাকা। হাদিসের সনদটি এমন হতে হবে যার মধ্যে বিন্দু পরিমানেও কোন দোষ বা ত্রুটি না থাকে। এগুলো কেই সহীহ হাদিস বলা হয়।  এই পাঁচটির বাহিরে যদি কোন কারণ থাকে তাহলে তা সহীহ হাদিসের মধ্যে থাকবে না।

সহীহ হাদিসের হুকুম

নির্ভরযোগ্য উসুলেবিদ ও ফিকাহবিদ আহলে হাদিসের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী সহীহ হাদিসের হুকুম হলো, এ জাতীয় হাদিসের উপর আমল করা ওয়াজিব। আর এটা শরিয়তের দলীলও।

শেষ কথা

মানব জিবনে চলার পথে হাদিসের গুরুত্ব অপরিসীম এ ছাড়া মানব জিবন শূন্য। একজন খাঁটি মুসলমানের হাদিসের গঠন অনুযায়ী তার জিবন কে সাজানো উচিত। আমরা যেন আমাদের জিবন কে হাদিসের আলোকে আলোকিত করতে পারি আল্লাহ যেন আমাদের কে হাদিসের দেখানো পথ অনুযায়ী চলার তাওফিক দান করুন আমিন।

About admin

In a world where you can have everything. Be a giver first. My hobbies are writing , gaming, and SEO 😊

View all posts by admin →

Leave a Reply

Your email address will not be published.