বর্তমান সময়ের সেরা ২০ টি লাভজনক ব্যাবসা

লাভজনক ব্যাবসা

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে লাভজনক ব্যাবসা– ব্যাবসা প্রাচিনতম একটি জিবিকা নির্বাহ এর মাধ্যম। সৃষ্টির শুরু থেকেই ব্যাবসার শুরুর দেখা মিলে। নিজেকে অন্যের কাছে পরাধিন করে তুলতে না চাইলে নিজেই সচ্ছল হওয়ার জন্য ব্যাবসার কোনো বিকল্প নেই। প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় কয়েক লাখ ছাত্র-ছাত্রি গ্রাজুয়েশন শেষ করে বের হয়। তবে খেয়াল করলে দেখবেন তাদের মধ্যে সিংহভাগ ছাত্র-ছাত্রী বেকার। চাকরির সন্ধানে ছুটতে ছুটতে তাদের পায়ের জুতোর ছাল উঠে গেলেও চাকরির সন্ধান পাওয়া যায়না।

এ সকল বেকার সমস্যা রোধ করতে পারে ব্যবসার আইডিয়া গুলো। লাভজনক ব্যাবসা গুলো করে অল্প পুজিতে ব্যাবসা করা সম্ভব হয়। অনেকেই আছেন কিভাবে কোন ব্যাবসা শুরু করবেন সে সম্পর্কে কোনো আইডিয়া নেই। আমরা আজকে বেশ কিছু ব্যাবসার তালিকা তৈরি করেছি। এখান থেকে আপনি – ৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু করে ১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া সকল কিছু জানতে পারবেন ভাল

লাভজনক ব্যাবসা সব সময় পরিবর্তনশীল। একটু খেয়াল করলে দেখবেন সময়ের সাথে সাথে ব্যাবসার ধরণ গুলো পরিবর্তন হতে থাকে। এ জন্য আপনাকে বেছে নিতে হবে কোন সময়ের জন্য কোন ব্যাবসাটি সবচেয়ে ভালো হবে। বাংলাদেশে সাধারণত গ্রামে লাভজনক ব্যাবসা ও শহড়ে লাভজনক ব্যাবসার জন্য অধিক ইনভেস্ট এর প্রয়োজন পরে। তবে আপনি চাইলে ছোট ব্যাবসা গুলো কম পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন।

ব্যাবসা কি

Table of Contents

ব্যাবসা শব্দটির অর্থ হচ্ছে “ব্যাস্ত থাকা“। কোনো ব্যাক্তি পুজি ও পন্য সামগ্রী, লাভজনক কাজ গুলোতে ব্যাস্ত থাকা কেই মূলত ব্যাবসা বলে। ব্যাবসার কয়েকটি ধরন রয়েছে। ব্যাবসা আপনি চাইলে নিজেই ব্যাক্তিগত উদ্দোগে শুরু করতে পারেন, শেয়ারে ব্যাবসা করতে পারেন, কোনো কোম্পানি বা ব্রান্ড বানাতে পারেন বা সমবায় সমিতি এই ধরন গুলোকে ব্যাবসার মধ্যে ধরা হয়।

ব্যাবসা কেন করবেন? আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে কেন বা আপনাকে লাভজনক ব্যাবসা করতে হবে। আপনি যদি মুসলিম হয়ে থাকেন তাহলে জেনে খুসি হবেন যে, হযরত আদম (আ) থেকে শুরু করে যে সকল নবী ও রাসুল পৃথিবীতে এসেছেন তারা সকলেই ব্যাবসা করতেন। ব্যাবসা একটি হালাল ও নেক ইবাদতের মধ্যে পড়ে। আপনি যে ধর্মের অনুসারী হোন না কেন অল্প সময়ে লাভবান হতে চাইলে লাভজনক ব্যাবসার কোনো বিকল্প নেই।

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে লাভজনক ২০ টি ব্যাবসা

১- ফাস্ট ফুড রেস্টুরেন্ট ব্যাবসা

বাংলাদেশে লাভজনক ব্যাবসা গুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাবসা হলো ফাস্ট ফুড রেস্টুরেন্টে এর ব্যাবসা। বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় মানুষ রেস্টুরেন্টে খেতে যেতে বেশী পছন্দ করে। আপনি গ্রামে হোন বা শহড়ে রেস্টুরেন্টে ফাস্ট ফুড খেতে মানুষ আসবেই। আপনার খ্যাদ্যের উপরে যদি ভালো পরিমান আইডিয়া থাকে এই ব্যাবসা টি আপনাকে অনেক বেশী সহায়তা করবে।

যে কোনো অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, ট্যুরিস্ট স্পট এসকল যায়গা গুলোতে যদি শুরু করতে পারেন আপনার ব্যাপক পরিমানে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা বেশী হবে। যেভাবে ফাস্ট ফুড এর ব্যাবসা শুরু করবেন-

  1. ফাস্টফুড এর ব্যাবসায় আপনাকে প্রচুর ইনভেস্ট করতে হবে।
  2. ৫০-৮০ হাজার টাকার মধ্যে মানুষ এর যাতায়াত ব্যাবস্থা এমন
  3. একটি স্থানে একটি দোকান ভাড়া নিন
  4. ডেকারেসন করুন সুন্দর ভাবে।
  5. খাদ্যের আইটেম ও মান এর প্রতি লক্ষ্য রাখুন।
  6. রান্নার জন্য একজন লোক রেখে দিন৷
  7. খাবার সার্ভ নিজেই করুন অথবা আপনি চাইলে বেশি
  8. কাস্টমার হলে কয়েকজন ওয়েটার রাখতে পারেন।
  9. ক্রেতাদের কনভিন্স করার চেষ্টা করুন ও প্রচারনা করুন বেশী বেশী৷

২- শাক-সবজির বাগান ব্যাবসা

বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। এ দেশের গ্রামের প্রায় ৮৫ ভাগ মানুষ কৃষি কাজ ও ব্যাবসার সাথে জড়িত। আপনি যদি গ্রামে সবচেয়ে লাভজনক ব্যাবসা খুজে থাকেন এটি করতে পারেন। কাচামাল এর ব্যাবসা গুলোতে অধিক লাভ পাওয়া যায়। বিশেষ করে শাকসবজির দাম অনেক বেশী এবং এটি নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদার একটি বড় অংশ দখল করে আছে।

শাকসবজির ব্যাবসা শুরু করতে হলে আপনাকে এ বিষয়ের উপরে প্রোপার ধারণা থাকতে হবে। বাংলাদেশ কৃষি ট্রেনিং অধিদপ্তর থেকে আপনি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপরে ট্রেনিং গ্রহন করতে পারবেন। সাজেসন থাকবে ট্রেনিং না দিয়ে এ ব্যাবসা না করলে লস এর সম্ভাবনা বেশী থাকে। যেভাবে শাক-সবজি ব্যাবসা শুরু করবেন-

  1. প্রথমে চাষ যোগ্য জমির প্লট সিলেক্ট করুন
  2. সিজনাল সবজি গুলো বেশী রোপন করুন।
  3. বিক্রির জন্য বড় বড় ডিলার ম্যানেজ করুন।
  4. ইনভেস্ট এর পূর্বে সকল বিষয়ে যাচাই ও বাছাই করে নিন।

৩- কসমেটিকস এর দোকান ব্যাবসা

বাংলাদেশের লাভজনক ব্যাবসা গুলোর মধ্যে কসমেটিকস এর ব্যাবসা পূর্বেও লাভজন ছিল, বর্তমানে আছে ও সূদুর ভবিষ্যতে ও থাকবে। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মেয়েরাই একাধিক কসমেটিকস এর পন্য ব্যাবহার করে থাকেন রুপের আধিক্য বৃদ্ধি করতে। তাই এই ব্যাবসার চাহিদাও তুলনামূলক অনেক বেশী।

পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর উপায়সমূহ

বেশিরভাগ কসমেটিকস এর প্রোডাক্ট গুলো চায়না ও ইন্ডিয়া থেকে আমদানি হয়ে থাকে। তাই বাংলাদেশের দাম না দেয়ায় থাকেনা সঠিক রেট। এ ব্যাবসায় লাভ ও অনেক বেশী হয় এজন্য। যেভাবে শুরু করবেন কসমেটিকস এর ব্যাবসা-

  1. এমন কোনো প্লেস সিলেক্ট করুন যেখানে মেয়েদের আনাগোনা অনেক বেশী। বিশেষ করে, স্কুল বা কলেজের পাশাপাশি হলে সবচেয়ে ভালো হয়।
  2. কোন পণ্য গুলো বেশি বিক্রয় হয় সেগুলা বেশী রাখার চেষ্টা করুন।
  3. ভালো ডেকারেসন এর ট্রাই করুন।
  4. বাহিরের ব্রান্ডের পন্যের পাশাপাশি দেশীয় পণ্য গুলাও রাখুন।
    অধিক টাকা ইনভেস্ট করে ব্যাবসা টি শুরু করুন।

৪- ব্লগিং ব্যাবসা

অনলাইনের মাধ্যমে কম ইনভেস্ট এর মধ্যে ব্যাবসা করতে চাইলে ব্লগিং আপনার জন্য ভালো একটি প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। সবচেয়ে লাভজনক ব্যাবসা না হলেও সঠিক ভাবে নিয়ম মেনে কাজ করে গেলেও অবশ্যই লাভবান হতে পারবেন আপনিও। ব্লগিং হলো অনলাইনে একটি সাইট তৈরি করা। আপনি ব্লগার কিংবা ওয়ার্ডপ্রেস এর মাধ্যমে একটি সাইট বানিয়ে সেখানে আপনার জ্ঞান অনুযায়ী লেখালেখি করে আয় করতে পারবেন।

আপনি বর্তমানে যে লেখা টি পড়ছেন এটি ও একটি ব্লগ সাইট। সাইটের মাধ্যমে ইনকাম কিভাবে হয়? ব্লগিং এর জন্য আপনার প্রতিটি লেখায় গুগল এডস, এ-এডস, ইজোইক এডস সহ বিভিন্ন কোম্পানির এডস লাগিয়ে ইনকাম করতে পারবেন। আপনার সাইটের র‍্যাংক যদি ভালো হয় তাহলে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং ( বিভিন্ন পণ্যের পেইড বিজ্ঞাপন) দিয়ে আয় করতে পারবেন। কিভাবে ব্লগিং শুরু করবেন-

  1. ব্লগিং এর জন্য আপনার একটি ডোমেইন ও হোস্টিং কিনতে হবে।
  2. সেটা ওয়ার্ডপ্রেস অথবা ব্লগারে (ব্লগারে হোস্টিং লাগেনা) কানেক্ট করতে হবে।
  3. এসএইও ও আর্টিকেল অপ্টিমাইজড রাইটিং ভালোভাবে শিখতে হবে।
  4. ২/৩ মাস নিয়মিত লেখা লেখি করে গুগল থেকে ভিজিটর এনে এডসেন্স আবেদন করলে যদি এপ্রুভ দেয়া হয় তাহলে এডস থেকেই ইনকাম করতে পারবেন।
  5. ব্লগিং বিষয়টা অনেক বিস্তৃত এ সম্পর্কে আমরা একটি আর্টিকেল শীঘ্রই প্রকাশ করবো।

৫- ডোমেইন ও হোস্টিং ব্যাবসা

আপনার যদি অনলাইন সম্পর্কে ধারনা ও ভালোভাবে জানা থাকে তাহলে অনেক লাভজনক ব্যাবসা অনলাইন এর মাধ্যমেই শুরু কর‍তে পারবেন। অনলাইনে জনপ্রিয় ব্যাবসা গুলোর মধ্যে নিশ্চিত ভাবেই ডোমেইন হোস্টিং ব্যাবসাকে তালিকা ভুক্ত করা যায়৷ প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য একটি ডোমেইন ও হোস্টিং প্রয়োজন হয়।

তবে বেশিরভাগ ডোমেইন বা হোস্টিং কোম্পানি গুলো বাহিরের দেশের হওয়ায়। যাদের কাছে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড নেই তাদের দেশীয় কোম্পানির শরনাপন্ন হতে হয়। এ ক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার নিজস্ব কোম্পানি দিয়ে সেল/ রি-সেল করেন তাহলে আপনার প্রচুর লাভ্যাংস সেখান থেকে থাকবে। ডোমেইন হোস্টিং ব্যাবসা কিভাবে শুরু করবেন-

  1. যদি আপনার বাজেট কম হয় তবে রিসেলার শুরু করতে পারেন আর বাজেট বেশী হলে ভিপিএস বা ডেডিকেটেড সার্ভার দিয়ে ব্যাবসা শুরু কর‍তে পারেন।
  2. নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট তৈরি।
  3. কোম্পানির বিজ্ঞাপন।
  4. ভালো মানের সেবা প্রদান।

ডোমেইন হোস্টিং এর ব্যাবসা সম্পর্কে সম্পুর্ণ বিস্তারিত ধারণা আমরা পরবর্তী পোষ্টে দিয়ে দিবো।

ইংরেজিতে সাবলীল ভাবে কথা বলার কৌশল

৬- ফার্মেসি ব্যাবসা

মেডিসিন আমাদের প্রত্যাহিক জিবনের অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মেডিসিন ক্রয় করা লাগে না এমন কোনো পরিবার হয়ত খুজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। বর্তমানে নয় শুধু সবসময় ধরেই লাভজনক ব্যাবসার তালিকায় ফার্মেসি এর ব্যাবসা থাকে। আপনি মেডিসিন বিক্রয় এর পাশাপশি ব্যাসিক লেভেল এর ট্রেনিং দিয়ে টুকটাক রোগি দেখতে পারবেন।

আপনার আসে পাশে যদি ফার্মেসি থাকে একটু খেয়াল করলেই দেখবেন দোকানে ভিড় লেগেই থাকে। আসলে মেডিসিন সবচেয়ে বেশী বিক্রিত পণ্য গুলোর মধ্যে একটি। আপনার বাজেট এর পরিমান যদি বেশী থাকে নিশ্চিত ভাবেই আপনি ফার্মেসি ব্যাবসা শুরু কর‍তে পারেন। ফার্মেসি ব্যাবসা যেভাবে শুরু করবেন-

  1. এমন কোনো প্লেস বেছে নিন যেখানে একটা নির্দিষ্ট সময়ে বা সবসময় বেশী মানুষ জন থাকে।
  2. সদ্য হওয়া কোনো হাসপাতালের পাশে হলে সবচেয়ে বেশী ভালো হয়।
  3. ফার্মেসি দেয়ার জন্য ট্রেনিং এর প্রয়োজন হয় সেটা সম্পুর্ণ করুন।
  4. যে মেডিসিন গুলোতে লাভ বেশী ও বেশী পরিমান বিক্রি হয় সেগুলো নিয়ে দোকান সাজাতে পারেন।

৭- কোচিং সেন্টার ব্যাবসা

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী কোচিং সেন্টার রয়েছে। লাভ জনক ব্যাবসা গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। কোচিং সেন্টার এর বিভিন্ন ধরন হয়ে থাকে। আপনার দক্ষতা ও বাজেট উপর নির্ভর করে আপনি কোন মাধ্যমে যেতে চান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি থেকে শুরু করে ক্লাস ১ থেকে কোচিং সেন্টারে ছাত্র – ছাত্রী দের পড়ানো যায়৷

এ ক্ষেত্রে শুরুতে আপনাকে ছাত্র – ছাত্রী সংগ্রহ করতে হবে। ভালো পরিমান ইফোর্ট দিতে হবে। আপনার বাজেট এর পরিমান ও অন্যান্য ব্যাবসার তুলনায় অধিক বাড়াতে হবে। কারন, আপনার কোচিং সেন্টার এ যদি ভালো পরিমান শিক্ষক না থাকে সে ক্ষেত্রে ছাত্র – ছাত্রী রা আপনার কোচিং সেন্টারে আসতে আগ্রহী হবে না।

কোচিং সেন্টার চালু রাখতে সম্ভবত পারমিশন এর প্রয়োজন পরে। প্রয়োজনীয় সকল কিছু শেষে শুরু করে দিতে পারেন এই ব্যাবসা টি কে। এক দিকে যেমন আপনি ছাত্র-ছাত্রী দের ভালবাসা অর্জন করবেন অন্য দিকে আপনার লাভজনক ব্যাবসা টাও দাঁড়িয়ে যাবে।

৮- কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার ব্যাবসা

আপনার কম্পিউটার চালানোর উপরে দক্ষতা থাকলে এই ব্যাবসা টি শুরু করতে পারেন। ব্যাবসা টি যেমন জনপ্রিয় তেমনি লাভজনক ব্যাবসা হিসেবেও পরিচিত। আমাদের দেশের বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রী দের বাসায় কম্পিউটার বা ল্যাপটপ না থাকার কারনে অনেকেই অজ্ঞ থাকে এ সকল বিষয়ে।
শুধু মাত্র এই সুজোগ টি কাজে লাগিয়ে রমরমা ব্যাবসা কাজে লাগাচ্ছে বিভিন্ন ব্যাবসায়িরা।

কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার ব্যাবসায় যে অধিক বাজেট এর প্রয়োজন এটা অনেক টা ভুল ধারনা। আমি এমন একজন কেও চিনি যিনি একটা রুম ও একটা ল্যাপটপ নিয়ে শুরু করেন। ২ বছর পরে তার প্রতি ৬ মাসে স্টুডেন্ট হয় ২/৩ হাজার এর বেশী। আপনি যদি ভালো পরিমান অর্থ ব্যয় করেন সহজেই সফল হতে পারবেন অন্যথায় সবর এর কোনো বিকল্প নেই। যেভাবে শুরু করবেন কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার ব্যাবসা-

নির্দিষ্ট কোনো স্থান বেছে নিন। যেখানে ভালো ইলেক্ট্রিসিটি ও ইন্টারনেট কানেক সন পাওয়া যাবে।
নিজের সেন্টার এর প্রচারনা বৃদ্ধি করুন।
গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ডাটাবেজ ইত্যাদি জনপ্রিয় কাজ গুলো শেখানোর জন্য যোগ শিক্ষক নিয়োগ দিন।
ছাত্র-ছাত্রী সংগ্রহ করুন।
প্রথমে ২০/২৫ টা কম্পিউটার সেন্টারে রাখতে পারেন।

৯- ফটোগ্রাফি ব্যাবসা

বর্তমান সময়ে ফটোগ্রাফি ব্যাবসা তুলনামুলক ভাবে লাভজনক ব্যাবসা বলা যায়। বিশেষ করে বিয়ে বাড়ির ফটোশ্যুটের কারনে তাদের ইনকামের পরিমান অনেক বেশী পরিমানে হয়। শুধুমাত্র ওয়েডিং ফটোগ্রাফি নিয় আপনি চাইলে ন্যাচারাল ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আপনার ক্যাপচার করা ছবি গুলো যদি ভালো কোয়ালিটি ধারন করে তাহলে মোটামুটি ভাবে ভালো দামে বিক্রি করে আয় করতে পারবেন।

ফটোগ্রাফি ব্যাবসা অনেক ইনভেস্ট এর একটি কাজ। এখানে কয়েকজন ভালো মানের ফটোগ্রাফার হায়ার করে মডেল শট, ফ্যামিলি শট, বিয়ে ফটোশ্যুট ইত্যাদি ইভেন্ট পরিচালনা করে প্রচুর টাকা আয় করা সম্ভব। ফটোগ্রাফি ব্যাবসায় ভালোই লাভ হয়ে থাকে। আপনার এ বিষয়ে ভালো পরিমান দক্ষতা থাকলে কাজে লাগাতে পারেন সেটাকে।

১০- ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যাবসা

আপনি যদি বিয়ে কিংবা কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানেত যাবতীয় সকল দায়িত্ব নিয়ে সকল কাজ করে দিতে পারেন সে রকম সাহস বা মানুষিকতা থাকে তাহলে এই ব্যাবাসা টি আপনি করতে পারবেন৷ এটি সবসময়ের জন্য একটি লাভজনক ব্যাবসা বলে আখ্যায়িত হয়।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট জন্য আপনাকে একটি ভালো টিম এর ব্যাবস্থা করতে হবে। যেখানে প্রতিটি ছেলে মেয়ে কাজের প্রতি ডেডিকেটেড থাকবে। এর পরে একটি নাম দিয়ে খুলে ফেলুন আপনাদের সংস্থা। বিয়ে সহ নানান ইভেন্ট এ ভালোভাবে কাজ করার চেষ্টা করুন। এ সময় দেখবেন আপনাদের কাজ থেকেই প্রচুর মানুষ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর কাজ গুলো করিয়ে নিতে আগ্রহী হবে।

১১- টেইলরিং ব্যাবসা

বিশ্বে যত দিন মানুষ কাপড় পরিধান করবে তত দিন টেইলর এর চাহিদা থাকবে। তাই কোনো সংকোচ ছাড়াই বলা যায় এটি অনেক জনপ্রিয় ও লাভজনক ব্যাবসা এর মধ্যে অন্যতম। কোনো দোকান দিয়ে আপনি এই ব্যাবসা শুরু করতে পারেন। এজন্য আপনি ২ টি উপায় কাজে লাগাতে পারেন। নিজেও ট্রেইলারিং শিখে নিজেই কাজ করা ও বেশী টাকা ইনভেস্ট করে লোক রেখে কাজ করানো।

ওয়ালটন রাইস কুকারের দাম কত – Walton Rice Cooker Price in Bangladesh

এগুলো সম্পুর্ন নির্ভরশীল আপনার উপরে। ব্যাবসার জন্য নিজের কষ্টের কোনো বিকল্প নেই। কাস্টমার টার্গেট করুন। ভালো মানের কাজের ডেলিভারি দেয়ার চেষ্টা করুন। ট্রেইলরিং অনেক টাকা আয় করা সম্ভব যদি আপনি ব্যাবসা টি সঠিক ভাবে করতে পারেন।

১২- ফুলের ব্যাবসা

বর্তমান সময়ে ফুলের ব্যাবসা ও বেশ লাভজনক ব্যাবসার মধ্যে পড়ে। এ ক্ষেত্রে আপনি দুটি উপায় অবলম্বন করতে পারেন, ১- নিজেই ফুল চাষ করা ২- ফুলের দোকান দিয়ে বিক্রি করা। প্রেমিক-প্রেমিকা থেকে শুরু করে, অনুষ্ঠান, শ্রন্ধাঞ্জলি, দিবস সব ক্ষেত্রেই ফুলের চাহিদা ব্যাপক। ফুলের বাজার এর দিকে যদি একটু লক্ষ্য করেন দেখবেন এর দাম অনেক বেশী।

আপনি চাইলে এই ব্যাবসা টি ভালোভাবেই করতে পারেন। এখানে, আপনি যদি দোকানে ফুল বিক্রি করেন তাহলে আপনাকে বাছাই করে বাগান থেকে ভালো ও তাজা ফুল গুলো আনতে হবে। ফুলের মালা ও ফুলের হরেক রকম কারুকার্য তৈরি করতে হবে। আর আপনি যদি চান যে ফুলের চাষ করবেন এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার বিকল্প কিছু নেই। সফল হতে হতে অনেক টা সময় ও অনেক টাকা ইনভেস্ট ও চলে যেতে পারে।

১৩- ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকান ব্যাবসা

টেকনোলজির এই যুগে ইলেক্ট্রিনিক্স পণ্যের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনি যদি লাভজনক ব্যাবসা গুলো খুজে থাকেন তাহলে এটি আপনাকে অনেক বেশী সহায়তা করবে। এসকল দোকানের জন্য আপনি ৩/৪ লাখ টাকা যদি ইনভেস্ট করেন মোটামুটি ভাবে আপনি আপনার ব্যাবসা থেকে লাভবান হতে শুরু করবেন।

ইলেক্ট্রনিক পণ্যের চাহিদা কখনো কমবে না। ক্রেতাদের এগুলো এখন নিত্যদিনের ব্যাবহার করা যন্ত্র হিসেবেই কাজ করে থাকে। আপনার ব্যাবসার বাজেট যদি অধিক পরিমানে হয় ও আপনি পণ্য বিক্রি করতে ভালো পারেন তাহলে এই ব্যাবসা টি আপনাকে ভালো ভাবে লাভবান করে তুলবে।

১৪- ই-কমার্স ব্যাবসা

অনলাইনের মাধ্যমে ব্যাবসা করার জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ই-কমার্স ব্যাবসা। অল্প সময়ে অধিক মুনাফা পেতে চাইলে এই লাভজনক ব্যাবসা টি আপনাকে সহায়তা করবে। একটি ওয়েবাসাইট বানিয়ে নিন প্রথমে। যেখানে আপনি যে পন্য গুলো কে বিক্রি করবেন সেগুলার বিবরন লেখা থাকবে। কাস্টমার চাইলেই অনলাইন থেকে অর্ডার করে নিতে পারবে।

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ১০ টি ভালো গেম

এই ব্যাবসা টি করতে চাইলে অনেক বেশী অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে এসএইও ও ওয়েব নিয়ে যদি ভালো পরিমান দক্ষতা না থাকে তবে আপনার অধিক টাকা তো যাবেই সফল হওয়ার চান্স ও অনেক বেশী কম।

১৫- ইউটিউব চ্যানেল ব্যাবসা

আপনি একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেও এই লাভজনক ব্যাবসা শুরু করতে পারেন। ইউটিউবে ভিডি মার্কেটিং করে লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। ইউটিউব এর যে কোনো একটি নিশ বাছাই করে সে অনুযায়ী ইউনিক ও কোয়ালিটি সম্পন্ন কনটেন্ট তৈরি করে সেগুলা পাবলিশ করতে পারেন।

গুগল এডসেন্স মনিটাইজেসন অন করে মাসে প্রচুর টাকা আয় হবে। পাশাপাশি আপনি চাইলে বিভিন্ন পেইড বিজ্ঞাপন এর প্রচারণা করে দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আয় করতে পারবেন। আপনার কনটেন্ট এর নিশ অনুযায়ী আপনি একটি দক্ষ টিম তৈরি করে নিতে পারেন। কারন ইউটিউবে অনেক গুলো কাজ থাকে আপনি একা মানুষ হলে যা একার পক্ষে করা সম্ভব হয় না।

১৬- পুরাতন বই বিক্রি এর ব্যাবসা

লাভজনক ব্যবসার মধ্যে এটি অন্যতম একটি ব্যাবসা। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের প্রতি সেমিস্টানে নতুন সব বই, সাজেসন, নোটস, গাইড ইত্যাদি ক্রয় করা সম্ভব হয়না। এজন্য আমরা পুরাতন কোনো বই এর দোকান থেকে পুরাতন বই গুলো কম দামে ক্রয় করে থাকি। আপনি এই ব্যাবসা টি অনলাইন বা অফলাইন সব খানেই করতে পারবেন।

ওয়ালটন ফ্রিজ এর মূল্য তালিকা – walton refrigerator price in bangladesh 2022

পুরান বই গুলো সংগ্রহ করুন অল্প দাম দিয়ে। বইয়ের মান গুলো দেখে বাছাই করে নিন। যেগুলার মান অনেক ভালো সেগুলা নতুন বইয়ের চেয়ে অর্ধেক দামে বিক্রি করলেও আপনি লাভবান হবেন অনেক। অনলাইনে ফেসবুক ব্যাবহার করে এটি করতে পারবেন। কুরিয়ার সার্ভিস ব্যাবহার করে সারাদেশে আপনি সহজেই ব্যাবসা করতে পারবেন। অল্প পুজিতে ব্যাবসা যারা খুজছেন এটি তাদের জন্য বেশ লাভজনক ব্যাবসা।

১৭- কাপড়ের ব্যাবসা

বাংলাদেশে কাপড়ের ব্যাবসা লাভজনক ব্যাবসা হিসেবে পরিচিত। অতিরিক্ত লাভ যদি করতে চান তাহলে এই ব্যাবসা করতে পারেন। কাপড়ের দোকান দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পোষাক সাজিয়ে বিভিন্ন দামে বিক্রি করতে পারেন। কাপড়ের চাহিদা অনেক বেশী। আপনি যদি ভালো প্লেসে একটি দোকান দিয়ে বসতে পারেন তাহলে বেশ ভালোভাবেই লাভবান হতে পারবেন।

১৮- ফার্মিং ব্যাবসা

ফার্মিং ব্যাবসা গুলো আপনি গ্রামে বেশি পরিমানে করতে পারবেন৷ গ্রামে এটি কে লাভজনক ব্যাবসা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। আপনি যদি গ্রামে ব্যাবসা করতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে ফার্মিং ব্যাবসা করতে পারেন। গরুর ফার্ম, মুরগির ফার্ম, হাসের ফার্ম এগুলোতে নানা দিক থেকে অর্থ আসে। যেমন ধরুন, একটা গরুর ফার্মে একদিক থেকে আপনি দুধ বিক্রি করে ব্যাপক টাকা লাভ করতে পারেন। অন্যদিকে গোবর কে ব্যাবহার করে সার ও গ্যাস হিসেবে কনভার্ট করে আয় করতে পারবেন। পরিশেষে গরু বা মাংশ বিক্রি তো থাকছেই।

ফার্মিং ব্যাবসায় আগ্রহ, অভিজ্ঞতা, ও ইনভেস্ট এর পরিমান অনেক বেশী থাকতে হয়।

১৯- মোবাইল সার্ভিসিং এর দোকান ব্যাবসা

বর্তমান আধুনিক এই যুগে মোবাইল ব্যাবহার করেনা এমন মানুষ খুজেও পাওয়া মুশকিল। লাভজনক ব্যাবসা গুলোর মধ্যে এটি সেরা একটি ব্যাবসা হিসেবে কাজ করবে। মোবাইল এর নানা বিধ সমস্যার জন্য ছুটতে হয় মোবাইল সারাতে। আপনার যদি ভালো পরিমান টাকা ইনভেস্ট করার ইচ্ছা থাকে তাহলে অভিজ্ঞ কয়েকজন মোবাইল টেকনিশিয়ান নিয়ে একটি দোকান দিয়ে সার্ভিসিং শুরু করতে পারেন।

২০- সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার ব্যাবসা

বাড়িতে বসে সহজেই কাজ করার সেরা লাভজনক একটি ব্যাবসা এটি। সোশ্যাল মিডিয়া তে বিভিন্ন পেজের জন্য বিজ্ঞাপন বুস্টিং, প্রয়োজনীয় আর্টিকেল, মার্কেটিং এর জন্য প্রচুর দক্ষ লোক বা টিম নেয়া হয়।

আপনার যদি এ সম্পর্কে অভিজ্ঞ কোনো টিম থাকে আপনি বেশ ভালোভাবেই মাসে প্রচুর কাজ করে আয় করতে পারবেন। এখানে আপনাকে তেমন কোনো ইনভেস্ট এর প্রয়োজন হবে না। অল্প কিছু পুজি দিয়ে যেটা সামান্য পরিমান দিয়েই শুরু করতে পারবেন।

শেষ কথা

লাভজনক ব্যাবসা আর্টিকেলে আমরা ২০ টি এ সময়ের সবচেয়ে লাভজনক ব্যাবসা নিয়ে আলোচনা করলাম। আপনি যদি ব্যাবসা করতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে এখান থেকে বিভিন্ন ব্যাবসা করতে পারেন। ব্যাবসার জন্য ইচ্ছার চেয়েও অভিজ্ঞতা বেশী কাজে লাগে। আর্টিকেল টি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

About admin

In a world where you can have everything. Be a giver first. My hobbies are writing , gaming, and SEO 😊

View all posts by admin →

Leave a Reply

Your email address will not be published.