বাংলা হাদিস – ১০ টি বাংলা অনুবাদ সহিহ হাদিস

বাংলা হাদিস

বাংলা হাদিস – সহিহ হাদিস

হাদিস এর পরিচয়  হাদিস হলো ইসলামে শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস। একে কুরআনের ব্যাখা বলা হয়। হাদিস কুরআন বুজতে সহায়তা করে।  মহা নবী হযরত মোহাম্মদ সঃ এর কথা, কাজ এবং সাহাবিদের কোন কাজ কে সম্মতি দেওয়া এগুলো হাদিস।

সুন্নাহ তরিকা মোতাবেক আমাদের জীবন কে সুন্দর করে সাজাতে হাদিস এর ভুমিকা অপরিহার্য। বাংলা হাদিস বা অনুবাদ করা হাদিস গুলো সবার জন্য বুঝতে সুবিধা হয়। 

আজকের পোষ্টে আমরা জানবো বাংলা হাদিস সম্পর্কে। সহিহ হাদিস গুলো সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য জরুরি।  মহানবী সা এর কাজ ও আদেশ সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে হলে হাদিস আপনাকে জানতেই হবে।  ইনশাআল্লাহ আজকে আমরা বাংলা হাদিস সম্পর্কে জানবো।

হাদিস কি

হাদিসের আভিধানিক অর্থ–  হাদিস শব্দটি আরবী শব্দ, এর আভিধানিক অর্থ হলোঃ- কথা, কাজ, ঘটনা, উপদেশ ও সংবাদ ইত্যাদি।

ইসলামের পরিভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ সঃ এর কাজ,কথা, বনী,মৌনসম্মতি কাজের অনুমোদন কে হাদিস বলা হয়। আজকে আমরা ১০ গুরুত্বপূর্ণ সহীহ হাদিসের বাংলা অর্থ  সম্পর্কে জানবোঃ-

হাচি সম্পর্কে সহিহ বাংলা হাদিস

হযরত আবু হুরায়রা রঃ হইতে বর্নিত। তিনি নবী করিম সঃ থেকে বর্ননা করেন, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা হাঁচিকে পছন্দ করেছেন আর হাই তোলাকে অপছন্দ করেন। অতএব, তোমাদের মাঝে যদি কেউ হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ   বলে তখন অন্য মুসলমান শুনা মাত্রই তার

উপর ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা ওয়াজিব হয়ে যায়। আর হাই তোলা এটা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে।   কাজেই যখন তোমাদের কারোর হাই এসে যায়, তবে সে যেন তা সাধ্যমত তা প্রতিরোধ করে।কেননা তোমাদের মধ্যো থেকে যখন কেউ হাই তোলে তখন শয়তান হাসে।(বুখারী হাদিস)

হাসি সম্পর্কে সহিহ বাংলা হাদিস

হযরত আয়েশা রাঃ থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমি কখনো রাসুলুল্লাহ সাঃ কে অট্রহাসি হাসতে দেখিনি যে, তার কন্ঠতালু বা আল্লা জিহ্বা দেখা গেছে। তিনি কখনো অট্টহাসি দিতেন না; বরং তিনি সব সময় মুচকি হাসি দিতেন।(বুখারী)

হযরত আবদুল্লাহ ঔবনে হারেস ইবনে জাযয়া রঃ থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমি রাসুল সঃ এর চেয়ে আধিক মুচকি হাসতে কর কাউকে দেখিনি।(তিরমিযী)

কাউকে ডাকার জন্য সহিহ বাংলা হাদিস

হযরত আনাস ইবনে মালেক রাঃ হতে বর্নিত। তিনি বলেন, একদা নবী করিন সঃ বাজারে ছিলেন, এ সময় পিছন থেকে এক ব্যক্তি হে আবুল কাছেম! বলে ডাক দিলেন নবী করিম সঃ তখন পিছন ফিরে তাকালেন। তখন লোকটি বললে,হে আল্লাহর রাসুল!  আমি তো আপনাকে ডাকিনি, আমি তো ওই লোককে ডাক দিয়েছি। অতপর নবী করিম সঃ বলেন তোমরা আমার নামে (মুহাম্মদ)  নাম রাখো, কিন্তু আমার উপনামে উপনাম গ্রহণ করো না। (বুখারী ও মুসলিম)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, হযরত ওমর রাঃ এর একজন কণ্যা সন্তান ছিল। তার নামের অর্থ ছিলো পাপিষ্ঠা। তখন নবী করিম সঃ তার নাম রাখলেন জামিলা,অর্থ রূপসী বা সুন্দরী। (মুসলিম)

ইংরেজি শেখার সহজ উপায় – সহজে ইংরেজি শেখার কৌশল

হযরত সাহল ইবনে সাদ রাঃ হতে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমার জন্য তার দু’চোয়ালের মধ্য স্থান তথা জিহ্বার হিফাজত করবে এবং দু’উরুর মধ্যো স্থান তথা লজ্জা স্থানের হিফাজত করবে ( অর্থাৎ তার জিহ্বা দ্বারা ভালো কথা বলবে, অশ্লীল পরিহার করবে, আর লজ্জা স্থানের হিফাজত করবে তথা যেনা ব্যভিচারে লিপ্ত হবে না)  আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হয়ে যাবো। (বুখারী)

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ হতে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেন, তোমরা কিয়ামতের দিন সবচেয়ে খারাপ মানুষ হিসেবে ওই ব্যক্তিকে দেখতে পাবে, যে দ্বিমুখী। সে একদলের নিকট এক মুখ নিয়ে আসে অন্য দলের নিকট অন্য মুখে। (বুখারী ও মুসলিম)

তাকওয়া নিয়ে সহিহ বাংলা হাদিস

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ হতে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ কে জিজ্ঞেস করা হলো,কোন ব্যক্তি সব চেয়ে সম্মানিত? অতপর তিনি বললেন, আল্লাহ তায়ালার কাছে তাকওয়াবান ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি সম্মানিত। সাহাবী গন বললেন, আমরা এ দৃষ্টি কোন থেকে আপনাকে জিজ্ঞেস করিনি। তখন রাসুলুল্লাহ সাঃ বললেন, সকল মানুষেমানুষের মধ্যে সব চেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি হলেন আল্লাহ নবী ইউসুফ (আ) যিনি আল্লাহ নবী ইয়াকুব (আ) এর ছেলে,আল্লাহ নবী ইসহাক (আ) এর পৌত্র এবং আল্লাহ নবী ইবরাহীম (আ) এর প্রপৌত্র। সাহাবী গন বললেন, আমরা এ দৃষ্টি কোন থেকে ও জিজ্ঞেস করি নি।তখন রাসুলুল্লাহ সাঃ বললেন তোমরা কোন আরোবদের বংশ মার্যাদা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছ? তখন সাহাবী গন বললেন, হ্যা। তখন রাসুলুল্লাহ সাঃ বললেন, তোমাদের মধ্যে যাহেলী যুগের যারা উত্তম ছিল ইসলামি যুগেও তারা উত্তম; যদি তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান রাখে।( বুখারী ও মুসলিম)

বাংলা হাদিসঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ হতে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ বললেছেন,যে ব্যক্তি আমাদের ছোট দের প্রতি স্নেহ মমতা দেখাস না, আমাদের বড়ো দের প্রতি সম্মান দেখায় না,

সৎকাজের আদেশ দেয় না এবং মন্দ কাজের নিষেধ করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।( ইমাম তিরমিজি এই হাদিস টি বর্ননা করেন এবং তিনি বলেন এই হাদিস টি গরীব)

বন্ধু নির্বাচন এর জন্য সহিহ বাংলা হাদিস

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ হতে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, প্রত্যেক ব্যক্তি তার বন্ধুর আদর্শে গড়ে উঠে। অতএব তোমাদের প্রত্যেকের খেয়াল রাখা উচিত, সে কাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহন করেছে। ( ইমাম আহমদ তিরমিজি, আবু দাউদ ও ইমামা বায়হাকি এই হাদিস টি বর্ননা করেন। ইমাম তিরমিযি বলেন, এই হাদিস টি হাসান ও গরীব। কিন্তু ইমাম নববী রঃ বলেন, এর বর্ননা সূত্র সহীহ)

শেষ কথা

বাংলা হাদিসঃ নবী  করিম সঃ এর মুখের কথা তার কাজ সাহাবী গনের কাজে মনসম্মতি দেওয়া এগুলোই হাদিস। আমার আজকে যে দশ টি হাদিস সম্পর্কে জানলাম তা সবার জিবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা যেন এগুলোর উপর আমল করতে পারি আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন আমিন।

About admin

In a world where you can have everything. Be a giver first. My hobbies are writing , gaming, and SEO 😊

View all posts by admin →

Leave a Reply

Your email address will not be published.