ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় – মানুষিক অবসাদ থেকে মুক্তির উপায় 2022

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায়

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় – মানুষিক অবসাদ থেকে মুক্তির উপায়

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায়– আমরা ভাবি যে আমাদের শুধুমাত্র শরীর খারাপ হলে বা শরীরে সমস্যা হলে আমরা ডাক্তারের কাছে যেতে পারি। কিন্তু সেই কথাটা যখন আমাদের মনের দিক থেকে হয় যে আমাদের মন খারাপ। অনেক দিন ধরেই হয়তো মন খারাপ। কিছু করতে ভালো লাগছে না। সেই জায়গাটাতে আমরা গুরুত্ব দেই না। সেই জায়গাটা কাটিয়ে আসার চেষ্টা করি না। এটা অনেকের জীবনে অনেক কারনে হয়। এই সমস্যা গুলোতে বেশিরভাগই স্টুডেন্ট বা ইয়াং জেনারেশনের ছেলেমেয়েরা বেশি ভোগে। ডিপ্রেসন মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে যদি আপনি ডিপ্রেসব থেকে মুক্তির উপায় গুলো না জানেন পরতে পারেন জটিল সমস্যায়।

ডিপ্রেসনে ভোগা মানুষ গুলোকে দেখা যায়, তারা সব কিছু ছেড়ে দেয়। পড়াশোনা, খেলাধুলা সবকিছু। দেখা যায় একটা রুমের মধ্যে পড়ে থাকে। আমাদের পরিবার তখন বুঝতেই পারে না তাদের সন্তানদের হলো টা কি?

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায়

আজকাল এই ডিপ্রেশনে ভুগে অনেকেই আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। এটা এমনই একটি ভয়াবহ সমস্যা। আজকে আমরা কথা বলবো সেই ডিপ্রেশন নিয়ে এবং এর পার্মানেন্ট সলিউশন নিয়ে। অনেকেই ইন্টারনেটে খুজে থাকেন ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় গুলোকে। ডিপ্রেশনের পার্মানেন্ট সলিউশনের জন্য কোনো মেডিসিন নেই। এর পার্মানেন্ট সলিউশন আছে আপনার নিজের মধ্যে। জানতে হলে পুরো ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে।

ডিপ্রেশন বা বিষন্নতা একটি যন্ত্রণাদায়ক মানসিক ব্যাধি। যা ধীরে ধীরে একজন মানুষকে মৃত্যু অবধি নিয়ে যেতে থাকে। আত্মহত্যার মতো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে। যেহেতু এটি একটি মানসিক ব্যধি সেহেতু এর প্রতিকারও আমাদের খুজতে হবে মানসিক প্রশান্তির মধ্য দিয়ে।

যারা শহরে থাকে, যারা বয়সে বড়, যাদের বলার মতো মানুষ আছে তারা ডিপ্রেস্ট হলে সাহায্য চাইতে পারে। ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় গুলো জানতে পারে। বলতে পারে যে, আমি ডিপ্রেশনে আছি।
কিন্তু কম বয়সের ছেলে-মেয়েরা, যাদের বয়স ১৬ কিংবা ১৭ তারাও কিন্তু ডিপ্রেশনে ভোগে। ১৮ বা ১৯ বছরের জেনারেশনের ছেলে-মেয়েরাও ডিপ্রেশনের শিকার হয়। কিন্তু তারা বলার মতো মানুষ পায় না। ডিপ্রেশন বলতেই হেসে উড়িয়ে দেওয়া হয়।

শহরাঞ্চলের কথা না হয় বাদই দিলাম। গ্রামের মানুষ রা তো এটাই বুঝতে চায় না যে ডিপ্রেশন আসলে একটা রোগ। এর জন্যও ডাক্তার দেখাতে হয়। এইসব গ্রামের বাচ্চারা কাকে বলবে? তাদের কারা বুঝবে? ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় গুলো সম্পর্কে বেশী অজানা থেকে যায়।

অনেক সময় থাকে যখন আমাদের আশেপাশে কেউ থাকেন না আমাদের কথাগুলো শোনার জন্য তখন কি করবো? আমরা সবসময় দুটো ওয়ার্ল্ড নিয়ে চলাফেরা করি একটা হচ্ছে আউট ওয়ার্ল্ড বা বাইরের দুনিয়া। আরেকটা হচ্ছে ইনার ওয়ার্ল্ড। ভেতরের দুনিয়া।

যেটা আপনার ভিতরের জগৎ। আপনার ভালো থাকার জন্য এই দুটো ওয়ার্ল্ড ই গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইনার ওয়ার্ল্ড বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আউট ওয়ার্ল্ড এর প্রব্লেম গুলো অনেক সহজে সমাধান করা গেলেও ইনার ওয়ার্ল্ডের প্রব্লেমগুলোর সলিউশন সহজে বের করা যায় না। ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় গুলো আপনাকে বুঝতে শেখাবে এ সম্পর্কে।

একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝাই। ধরুন, একজন কেউ আপনাকে বিরক্ত করছে। আপনি তার কাছ থেকে দূরে চলে গেলেন। খুব সহজেই সমস্যাটির সমাধান বের হয়ে গেলো। এটা হচ্ছে আউট ওয়ার্ল্ডের প্রব্লেম।
এবার আসি ইনার ওয়ার্ল্ডের উদাহরণ নিয়ে। ধরুন, আজকে আপনার পরিক্ষার রেজাল্ট বের হলো। আপনি পরিক্ষায় ফেইল করছেন অথবা আপনার চাকরি চলে গেলো বা আপনার ব্রেকাপ হয়ে গেলো। আপনার মন প্রচন্ড খারাপ।

ঠিক এই সময়ে ১০০ মানুষ আপনার বাসায় আসলো আপনার জন্মদিন পালন করতে। এই অবস্থায় কি আপনি আনন্দ করতে পারবেন? বা আপনার কি একটুও খুশি লাগবে? লাগবে না।

কারন আপনার মনের ভিতরটা ই ভালো নেই।আপনি উপরে উপরে হয়তো হাসবেন। কিন্তু সেই হাসি হবে ফেইক। সেই হাসিটা হবে লোক দেখানো হাসি। আপনি মন থেকে হাসতে পারবেন না।
ভিতরে থাকা প্রব্লেম গুলোর সলিউশন এতো সহজে বের হয় না।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় গুলো এখানেই আসলে মূলত কাজে লাগাতে হয়। ইনার ওয়ার্ল্ডের সমস্যা থেকে পালিয়ে যাওয়া যায় না। আমরা সবসময় মনে করি আমাদের খুশি রাখার জন্য, আমাদের ভালো থাকার জন্য আউটার ওয়ার্ল্ড ই দরকার। কিন্তু না। ভালো থাকার জন্য ইনার ওয়ার্ল্ডের ভালো থাকা বেশি জরুরি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে কম দামে ল্যাপটপ 2022

আর এটা আমরা নিজেরাই করতে পারি। আপনি যদি ভিতর থেকে পার্মানেন্ট ভাবে ভালো থাকতে চান তাহলে আপনাকে মন থেকে শক্ত হতে হবে। ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় গুলো সম্পর্কে জানতে হবে।
কোনো প্রবলেম থেকে পালিয়ে না বেড়িয়ে সেটা নিজে থেকে সমাধান করতে হবে।

এই কাজটি আপনি যখন করতে পারবেন তখন আপনি ভালো থাকতে পারবেন। তাছাড়া নিজেকে সবসময় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন। যেই সকল কাজ করতে আপনার ভালো লাগে সেগুলো বেশি বেশি করুন। তাহলেই দেখবেন ধিরে ধিরে ডিপ্রেশন থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছেন।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির বই

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় গুলোর মধ্যে বই অন্যতম একটি মাধ্যম৷ ডিপ্রেশন থেকে বাঁচতে বই পড়া হতে পারে আদর্শ উপায়। অনেক জ্ঞানী ব্যক্তিদের বই আছে যেগুলো পড়লে আপনার মন ভিতর থেকে ভালো হতে থাকবে। আপনি ভিতর থেকে শক্তি অনুভব করবেন। ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় এর জন্য এই বই গুলো পড়তে পারেন-

  • ডিপ্রেশানঃ দুশ্চিন্তা ও হতাশা থেকে মুক্তির উপায় – ডেল কার্নেগি
  • ১০০ ওয়েজ টু মোটিভেট ইওরসেলফ – স্টিভ চান্ডলার
  • মাইন্ড ওভার মুড-ডেলিস গ্রিনবার্গার এবং ক্রিস্টিন পেডক্সি
  • ভাল লাগছে- ডাঃ ডেভিড বার্নাস
  • নুন্ডে ডেমোন – এন্ড্রু সলোমন
  • হতাশার মধ্য দিয়ে মাইন্ডফুল ওয়ে- মারকুল উইলিয়ামস, জন টিসভেল, জিন্ডেল সেগাল এবং জন কাবাত
  • সুখের ফাঁদ – কীভাবে লড়াই বন্ধ করা যায় এবং রুশ হ্যারিসের জীবনযাপন শুরু করা যায়।
  • ডিপ্রেশন নিরাময় – ড্রাগ ছাড়াই হতাশাকে পরাজিত করার ৬ পদক্ষেপের প্রোগ্রাম ডাঃ স্টিফেন ইলার্ডি।
  • আপনার মস্তিষ্ক পরিবর্তন করুন, আপনার জীবন পরিবর্তন করুন- ডাঃ ড্যানিয়েল আমেন।
  • অভারকামিং ডিপ্রেশন -ডাঃ সাঈদুল আশরাফ
  • ডিপ্রেশন, দুশ্চিন্তা ও হতাশা থেকে মুক্তির উপায় – ডেল কার্নেগী
  • উদ্বেগ টেনশম মনোবিজ্ঞানিক সমাধান – ডাঃ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
  • মনের সুখ মনের অসুখ -ডাঃ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
  • সুখী মানুষ – ডাঃ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
  • জোন কাবাত – জ্বিনের সম্পূর্ণ বিপর্যয় বেঁচে থাকা।
  • ডার্কনেস– উইলিয়াম স্টায়রন
  • আশা করা যায় এই বই গুলো পড়লে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় পেয়ে যাবেন বেশ ভালো করেই।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ইসলামিক উপায়

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় গুলোর মধ্যে ইসলামিক উপায় আপনি ডিপ্রেসন কাটাতে পারেন। ডিপ্রেশন এবং হতাশা আমাদের জীবনেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। পৃথিবীতে যতো নবী-রাসূলগণ এসেছেন এবং আল্লাহ যতো প্রিয় বান্দাগন গতো হয়েছেন সবার জীবনেই কম বেশি দুশ্চিন্তা, হতাশা, ডিপ্রেশন এগুলো ছিলো।

তারা তাদের সেই কঠিন সময়গুলোতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে সাহায্য প্রার্থনা এবং আশ্রয় প্রার্থনা করা মাধ্যমে নিজেদেরকে এতটা নিরাপদে রেখেছেন, এতটাই ভালো রেখেছেন, এতটাই স্বাভাবিক রেখেছেন যে কোনো বিপদ,কোনো ডিপ্রেশন, কোনো হতাশা, কোনো মসিবত তাদেরকে ভেঙ্গে ফেলতে পারেনি। বরং হতাশা, ডিপ্রেশন নিয়েও তারা হেসেছেন এবং স্থির থেকেছেন মানষিক ভাবে। ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় জানতে হলে তাদের লাইফস্টাইল টাও বুঝতে হবে।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় এর মধ্যে রবের স্বরণাপন্ন হওয়ার মধ্য দিয়েও বিষন্নতা কাটিয়ে উঠা সম্ভব। এই সময়টায় সৃষ্টিকর্তার কাছে বেশি বেশি প্রার্থনা করতে হবে। শয়তানের ধোকা থেকে আশ্রয় চাইতে হবে। নিজের করা ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতের জন্য তার নিকট আশ্রয় চাইতে হবে জিকির ও দু’আর মাধ্যমে। ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় যারা ইসলামিক খুজেন তাদের সহায়তা করবে এটি।

এই বিষাদময় সময়টাতে মানুষ চায় একটু খোলা আলো বাতাস। খোলা প্রকৃতির কাছে নিজেকে বিলিয়ে দিতে। তাই মাঝে মধ্যে একটু বাহিরে বের হয়ে পছন্দের জায়গা গুলোতে বেড়াতে গেলে সহজেই এই বিষন্নতা কাটিয়ে তোলা সম্ভব।

মানুষ যখন প্রচন্ড পরিমাণ বিষন্নতায় পরে যায় তখন ভুলভাল সিদ্ধান্ত নিতে দিধা করে না। কখনও কখনও তারা আত্মহত্যার মতো পাপ করে বসে। তাই এই সময়টাতে ধৈর্য ধারন করা অত্যন্ত জরূরী। ধৈর্যের চেয়ে বড় ঔষধ এই বিষন্নতার জন্য আর কিছু হয় না। যে কোনো সমস্যার জন্য সবাইকেই ধৈর্য ধারন করা উচিৎ। ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় ও ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ইসলামি উপায় অনেক কার্যকরী ভুমিকা পালন করে।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির আমল

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় গুলোর মধ্যে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির আমল বেশ কার্যকরী। আজ আমরা কয়েকটি আমলের কথা বলবো যেই আমল গুলোর মাধ্যমে আমাদের সকল হতাশা, ডিপ্রেশন, মসিবত আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দূর করবেন, লাঘব করবেন এবং সেই সাথে সকল পরিস্থিতিতে আমাদের মানষিক ভাবে স্থির রাখবেন। ইন শা আল্লাহ।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায়
ডিপ্রেসন থেকে মুক্তির আমল

১- জিকরুল্লাহ বা আল্লাহর জিকিরঃ আমল গুলোর মধ্যে সর্বোপ্রথম আমল হলো আল্লাহর জিকির করা। আল্লাহর জিকির করার থেকে কার্যকর আর কোনো আমল নেই ডিপ্রেশন দূর করার জন্য।
কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ বলেছেন,

“আল্লাহ তায়ালার জিকির এর মাধ্যমে মানুষের মধ্য সমূহ প্রশান্ত হয়ে থাকে”

অতএব আল্লাহ তায়ালার স্বরন অন্তরে ও মুখে রাখা, আল্লাহর সাথে একান্তে কথা বলা, আল্লাহর কাছে নিজের সমস্যাগুলোর কথা বলা এর মাধ্যমে ডিপ্রেশন দূর করা যায় সবচেয়ে সহজে। জিকরুল্লাহ বা আল্লাহর জিকির করার একটা বিশেষ পদ্ধতি হলো কুরআন তিলাওয়াত। কুরাআন তিলাওয়াত যদি আপনি করেন। অর্থ সহোকারে বুঝে পড়েন তাহলে দেখবেন মানষিক ভাবে,অলৌকিক ভাবে,বিস্ময়কর ভাবে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপনার ডিপ্রেশনকে দূর করে দিবেন।

আপনার মধ্যে প্রশান্তির সৃষ্টি হবে। জিকরুল্লাহ বা আল্লাহর জিকিরের আরেকটি বিশেষ পদ্ধতি হলো সকাল এবং সন্ধ্যায় প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) অনেক গুলো জিকির এবং দোয়া আল্লাহর কাছে নিবেদন করতেন সেগুলো যদি আমরা নিয়মিত করতে পারি তাহলে সেক্ষেত্রে জিকরুল্লাহ এর মাধ্যমে ডিপ্রেশন ও দুশ্চিন্তা বাঁচার উপায় আমরা খুজে পাবো ইন শা আল্লাহ।

২/ দ্বিতীয় যেই আমলটির মাধ্যমে ডিপ্রেশন ও দুশ্চিন্তা থেকে আমরা মুক্তি লাভ করতে পারি তা হলো প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)- এর সারাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল এবং স্পেশাল জিকির। যে জিকির তিনি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে নিবেদন করতেন। তার কঠিম সময় যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যেতো ঠিক সেই সময়। আর সেই জিকিরটি হলোঃ

” লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আজীমুল হালিম। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশীল আজীম।
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু রব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রব্বুল আরদ্।
অয়া রব্বুল আরশীল কারীম।”

এই জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের একত্ববাদের সিকৃতি, তাঁর মহত্ত্বের বর্ননা দাওয়ার মাধ্যমে আমরা দুশ্চিন্তা, পেরেশানি ও ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি লাভ করতে পারবো ইন শা আল্লাহ।

ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ -ইসলামে ভালো নাম কেন রাখা উচিৎ? 2022

৩/ তৃতীয়ত যে আমলের মাধ্যমে ডিপ্রেশন ও কঠিনতম সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারি। দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি লাভ করতে পারি সে দোয়াটি আমাদের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) সারাজীবন পালন করে গেছেন। আনাস (রাঃ) মহানবীর ১০ বছরের সেবক ছিলেন। তিনি বলেছেন আমি সবসময় দেখেছি এ দোয়া তিঁনি সবসময় পাঠ করতেন। এবং আল্লাহর কাছে দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির জন্য সাহায্য প্রার্থনা করতেন।
আর সেই দোয়াটি হলোঃ

“আল্লাহুম্মা ইন্নী আয়ুজুবিকা মিনাল হামনি ওয়াল হাজাল।
ওয়াল আজজী ওয়াল কাসাল। ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবুল। ওয়াদালা ইদ্দাইনি ওয়া গালাবাতিল রিজাল।

অর্থঃ আল্লাহ আমি আপনার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি। মুক্তি চাই পেরেশানি, দুশ্চিন্তা এবং ডিপ্রেশন থেকে। অক্ষমতা এবং অলসতা থেকে। এবং কৃপনতা থেকে। ভীরুতা থেকে আপনার কাছে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি। রিনের যে চাপ বা প্রেশার সেটা থেকে এবং মানুষ যেনো আমার ওপরে চড়াউ না হয় সে বিষয়ে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি।

৪/ চতুর্থ যে আমলের মাধ্যমে পেরেশানি, দুশ্চিন্তা এবং ডিপ্রেশনের সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের স্পেশাল সাহায্য পেতে পারি সেটা হচ্ছে সালাত বা নামাজ।
সালাত হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সাথে সংযোগ স্থাপনের সবচাইতে সহজ মাধ্যম।
প্রিয় নবী (সাঃ) বলেছেন,

” বান্দা যখন সিজদা তে যায় তখন আল্লাহর সবথেকে নিকট তম অবস্থায় সে চলে যায়। আল্লাহর সবথেকে কাছাকাছি যেতে পারে।”

এজন্য প্রিয় নবী (সাঃ) -এর সারাজীবনের অভ্যাস ছিলো, প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সাঃ) – জীবনে যখনই কোনো সমস্যা দেখা দিত সালাত আরম্ভ করতেন।
একজন পেরেশানি, দুশ্চিন্তা এবং ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য সালাত একটি অতুলনীয় আমল। এর সাথে অন্য কোনোটির কোনো তুলনা হবে না।
আমাদের জীবনে যখনই কোনো বিপদ বা ডিপ্রেশন দেখা দিবে।

আমাদের ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হবে সাথে সাথে ওযু করে আমরা দুই রাকাত সালাত আদায় করতে দাঁড়িয়ে যাবো। দীর্ঘ সিজদায়, দীর্ঘ রুকুতে, দীর্ঘ কেরাতে আমরা ধীর স্থীরতার সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করে মুনাজাতে দুই হাত তুলে আমরা মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে চোখের পানি ফেলে দিবো। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে থাকবো। ভোর রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে থাকবে সেই সময় আপনি আল্লাহর দরবারে সালাত আদায় করে কান্নাকাটি করবেন। দেখবেন ইন শা আল্লাহ আপনার সকল ডিপ্রেশন দূর হয়ে যাবে।

/ পাঁচ নাম্বারে যেই আমলটির মাধ্যমে আমরা ডিপ্রেশন থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারি সেটা হচ্ছে ইস্তেগফার।
ইস্তেগফার পড়ার মাধ্যমে আপনার মনের মধ্যে প্রশান্তি আসবে। ডিপ্রেশন থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন ইন শা আল্লাহ।

ঈমান কত প্রকার ও কি কি এবং ইহার অর্থ কি?

/ ছয় নম্বর আমলটি হলো নবী কারীম (সাঃ) এর প্রতি দুরুদ প্রেরণ করা। দুরুদ এর আমলের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের অন্তরকে প্রশান্ত করে থাকেন।স্থির করে থাকেন। অন্তরের পেরেশানি দূর করে থাকেন। বিপদ, মুশিবত থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুক্তি দান করে থাকেন।

৭/ সাত নাম্বার এবং সর্বশেষ আমলটি হলো সাদাকা। সাধ্য অনুযায়ী দান সাদাকা আমরা যতটুকু করবো এর মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে বিপদ-আপদ এবং কঠিন সময় থেকে মুক্তি লাভ করবেন।

মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তির উপায়

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় – একেকটা মানুষের মানসিক প্রশান্তি আসে ভিন্ন ভিন্ন জিনিসে। তাই পুরোপুরি বিষন্নতায় পরে যাবার আগেই সেই প্রশান্তির জিনিসটাকে খুজে বের করতে হবে। তাতে সময় দিতে হবে। নিজেকে সেই কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায়
মানষিক অবসাদ থেকে মুক্তির উপায়

মানুষ সামাজিক জীব। জীবনে চলতে ফিরতে বিভিন্ন মানুষের সাথে উঠা বসা করতে হয়। এই মানুষ গুলোর মধ্যেই কেও কাছের মানুষ কেও দূরের। আবার কেও খুব আপন কেও আবার সবচেয়ে অপছন্দের। এই মানুষ গুলোর? মধ্যেই খুজে বের করতে হবে কাছের মানুষ গুলো কে।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় যাদের সাথে কথা বলতে ভালো লাগে। সময় কাটাতে ভালো লাগে। ঘুর‍তে যেতে, বাহিরে বেড়াতে যেতে ভালো লাগে। যখনই নিজেকে বিষন্ন মনে হবে, মন খারাপ লাগবে তখন সেই মানুষ গুলোকে বেশি বেশি সময় দিতে হবে।
তাহলে আসতে আসতে নিজের মিনের ভাড় একটু হলেও কমবে। আরও একটা বিষয় কে অবশ্যই প্রাধান্য দেয়া উচিৎ

হতাশা থেকে মুক্তির উপায়

আমাদের বন্ধুমহলে একটা বন্ধু এমন হওয়া উচিত যার সাথে নিজের সব কথা সে হক চাই গোপন কিংবা অনর্থক কিছু সবই বলা যায়। এইসব বন্ধু গুলোর সাথে অনায়েসে নিজের বিষাদ কাটিয়ে দেয়া যায়।

শখের কাজে মনোযোগী হয়েও বিষন্নতা কাটানো সম্ভব। একেকটা মানুষের শখ একেক রকম। এই বিষাদময় সময়টাতে শখের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও মন অনেক হালকা লাগে।

অথবা এমন কোনো কাজ যা দায়িত্বের সাথে সম্পূর্ণ করতে হবে সেসব কাজে অংশ নিতে হবে। কাধে যখন কোনো কিছুর দায়িত্ব এসে যায় তখন ভুলভাল জিনিস গুলোয় মন খারাপ কম হয়।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় গুলোতে। সবসময় ইতিবাচক মনোভাব রাখতে হবে। এই কাজ টা আমি পারবো এটা আমার দাড়া সম্ভব এমন একটা মনোভাব প্রকাশ করতে হবে। মনের মধ্যে কোনো নেগেটিভিটি রাখা যাবে না। আমি পারবো না আমি ব্যর্থ আমার দাড়া হবে না সম্ভব না এসব ভাবা যাবে না।

১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া

শারিরীক সুস্থতা। শরীর ও মন একে অপরের সাথে সংযুক্ত। তাই মন খারাপ হলেও শরীর খারাপ করা যাবে না। সব সময় হাসিখুশি থাকার সাথে সাথে সবসময় সুস্থ থাকার ও চেষ্টা করতে হবে। সময় মতো পুষ্টির খাবার খেতে হবে। শারীরিক ব্যয়াম করতে হবে। সুতরাং যা যা করলে শরীর ভালো রাখা যায় তাই করতে হবে।

দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির ঔষধ

আপনি যদি মনে করেন দুশ্চিন্তা এমন একটি রোগ যেটা একটি ঔষধ খেলেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু একদমই না। এটা এমন একটি রোগ যার ঔষধ আবিষ্কার সম্ভব নয়।

একটা কথা সবসময় মনে রাখতে হবে যে দুশ্চিন্তা করে কখনওই কোনো সমস্যার সমাধান বের করা যায় নি। দুশ্চিন্তা করে হয় সুধু নিজের শরীরে ক্ষতি। মন খারাপ থাকে। শরীর নেতিয়ে পরে।
শরীরের মধ্যে নানা রকম রোগ বাসা বাধে। তাই দুশ্চিন্তা না করে কিভাবে সেখান থেকে মুক্তি লাভ করা যায় সেই পথ খুজতে হবে।ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় গুলো কাজে লাগাতে হবে।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উক্তি

ডিপ্রেশন এমন একটি রোগ যা একটি মানুষকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিতে পারে। একটা মানুষকে উপর থেকে দেখে কখনওই বোঝা যায় না যে সে কতটা ডিপ্রেশনের মধ্যে আছে। জীবন যখন আছে জীবনে ডিপ্রেশন, হতাশা অনেক কিছুই থাকবে। ভেঙ্গে পড়লে চলবে না।

আপনাকে শক্ত হয়ে মোকাবেলা করতে হবে। অন্য কেউ আপনাকে সাহায্য করতে পারবে না যদি আপনি নিজে চেষ্টা না করেন। রেগুলার মেডিটেশন করতে পারেন মনকে স্থির রাখার জন্য। পাশাপাশি উপরের লেখাগুলো ফলো করতে শুরু করুন। দেখবেন, ধিরে ধিরে আপনি ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে পারবেন ইন শা আল্লাহ।

আশা করি ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় গুলো সম্পর্কে আপনাদের ভালোভাবে ধারণা দিতে পেরেছি।

নগদ পিন রিসেট করার নিয়ম – পিন ভুলে গেলে করণীয় – 2022

About admin

In a world where you can have everything. Be a giver first. My hobbies are writing , gaming, and SEO 😊

View all posts by admin →

Leave a Reply

Your email address will not be published.