ডিজিটাল মার্কেটিং কি – ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করে বিস্তারিত

ডিজিটাল মার্কেটিং

বর্তমান সময় টা ডিজিটাল যুগের। ডিজিটাল যুগে মানুষ গুলো আগের তুলনায় টেকনোলজি সম্পর্কে অনেক বেশী জ্ঞান রাখতে সক্ষম হচ্ছে।  এই ডিজিটাল যুগে এসে যদি আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত না জানেন তাহলে তাহলে ভবিষ্যত সময়টা আপনার জন্য কঠিন হতে পারে।  

বিশ্ব সবসময় পরিবর্তনশীল।  বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের কেই চলতে হয়।  বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্র যেখানে ডিজিটাল মার্কেটিং করে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে আমাদের পিছিয়ে থাকা টা মোটেও উচিৎ নয়।  

প্রিয় পাঠকগন,  কেমন আছেন আপনারা?  নিশ্চয়ই ভালো আছেন।  বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত একটি বিষয়ের নাম ডিজিটাল মার্কেটিং ( Digital Marketing)।  আমরা অনেকেই আছি যারা এ সম্পর্কে ভালোভাবে জানি।  আবার অনেকেই আছি যারা ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।  তাই আপনাদের জানানোর জন্য, আজকের আর্টিকেলে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবকিছু একটি আর্টিকেলে আলোচনা করার চেষ্টা করব। 

একটা সময় ছিল যখন কোনো কোম্পানির পণ্য গুলোকে বাসায় গিয়ে বিক্রি করতে হতো।  এর পরে সেটা পরিবর্তন হয়ে দোকানে দেয়া শুরু করলো।  এর পরে যুগের পরিবর্তন এর কারণে এখন সেটা অনলাইনে ডিজিটাল ডিভাইস এর মাধ্যমে করে ফেলা সম্ভব হচ্ছে।  

আপনার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা কে আরো বেশী জনপ্রিয় করার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং গুরুত্ব অনেক বেশি।  মানুষের কাছে যেয়ে আপনার পণ্যের গুনগত মান বর্ণনা করা অনেক বেশী সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।  এর মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট কাস্টমার পর্যন্ত পৌছতে পারবেন না।  কারণ, আপনার  পণ্য ক্রয় করতে সে আগ্রহী কিনা / তার প্রয়োজন আছে কিনা সে সম্পর্কে আপনি আবগত নন।  

বর্তমানে প্রায় সকল মানুষ এই সোশ্যাল মিডিয়া তে অনেক সময় ব্যয় করে থাকে।  সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যমে ইন্টারনেট এ মানুষের সমাগম হয় বিশ্বব্যাপী। এখন,  আপনি যদি মাত্র ১ দিনে ৩ লাখ মানুষের কাছে আপনার পণ্যের মার্কেটিং করতে চান তবে ৩ লাখ মানুষের কাছে যাওয়া কি ১ দিনে সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব নয়।  অথচ আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে এটি সম্ভব করে তুলতে পারবেন।  

মোটামুটি ভাবে একটু হয়ত ধারণা পেয়েছেন ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে।  ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়টা অনেক বেশী বিস্তৃত।  তো অতি বকবকানি বাদ দিয়ে চলুন ডিজিটাল সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরি।  ডিজিটাল মার্কেটিং কি,  ডিজিটাল মার্কেটিং কত প্রকার,  ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স কোথায় পাবেন,  ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধা/অসুবিধা সব কিছু থাকছে নিম্নে।  

ডিজিটাল মার্কেটিং কি – What Is Digital Marketing 

ডিজিটাল মার্কেটিং হলো ইলেকট্রনিক ডিভাইস এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়া।  ডিজিটাল বলতে আমরা বুঝানো হয়েছে,  কোনো ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র।  আর মার্কেটিং এর অর্থ আমরা সকলেই জানি যে বিজ্ঞাপন।  অর্থ্যাৎ বর্তমান সময়ের আধুনিক ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করে যদি আপনি বিজ্ঞাপন প্রদান করে তবে সেটাকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলে।  

অনেকেই জানতে চান আসলে ডিজিটাল মার্কেটিং কাকে বলে?  মূলত ইলেকট্রনিক যন্ত্র এর মাধ্যমে যদি কোনো বিজ্ঞাপন প্রদান করা হয় তাহলে তাকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলা হয়। যা পূরনো আমলের মার্কেটিং থেকে সম্পুর্ন আলাদা।  আগে দোকানে ঘুরে ঘুরে কোনো পণ্যের মার্কেটিং করা হতো।  যে কাজ টা এখন ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করে অল্প সময়ে ঘরে বসে করা যাচ্ছে।  

আরো পড়ুন-

৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা – সেরা লাভজনক ৭ টি ব্যাবসার আইডিয়া

কোনো পণ্যের মার্কেটিং করতে হলে আমাদের জানতে হয় সেটার ক্রেতা কেমন হবে।  আমি আরো সহজ করে যদি উদাহরণ দেই- ধরুন, আপনার একটা কোম্পানি রয়েছে। যেখানে আপনি সাইকেল তৈরি করেন।  এখন,  আপনার সাইকেল বিক্রি করার জন্য অবশ্যই সেটার মার্কেটিং করতে হবে। 

কিন্তু আপনার তৈরি করা সাইকেল গুলোকে কোন বয়সের মানুষ বেশি ক্রয় করবে?  বিশেষ করে কিশোর গন বেশী আগ্রহী হবে।  কিন্তু আপনার কোম্পানির বিজ্ঞাপন যদি আপনি একজন ৫০ বয়সের মানুষের কাছে করেন।  তবে সে কি আপনার কোম্পানির সাইকেল কিনতে আগ্রহী হবে?  মোটেই হবে না।  

ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনার পণ্য গুলোকে নির্দিষ্ট কাস্টমার পর্যন্ত পৌছে দিতে পারবেন।  বিশেষ করে,  মানুষ কখন কি পছন্দ করে সে জিনিস গুলোর উপরে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে।  ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের জন্য মোবাইল ফোন, বিলবোর্ড, সোশ্যাল মিডিয়া, রেডিও, মোবাইল এপস ইত্যাদি বেশি পরিমানে ব্যবহার করা হয়।  

কোনো জিনিস এর মার্কেটিং করতে হলে অবশ্যই আপনাকে মানুষের কাছে যেতে হবে।  সাধারণত অনলাইন হলো ডিজিটাল বাজার এর মতো।  এখানে প্রতিনিয়ত মানুষ বিভিন্ন কারণে বা অকারণে প্রচুর সময় ব্যয় করে।  ব্যবসার পরিধি বাড়াতে হলে কাস্টমার কি চাচ্ছে,  কাস্টমার কোথায় আসবে,  সঠিক কাস্টমার কে ইত্যাদি এর সঠিক ব্যবহার করতে হবে।  

ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ – Types Of Digital Marketing

ডিজিটাল মার্কেটিং অনেক ধরণের হয়ে থাকে।  এবার চলুন দেখে নেই ডিজিটাল মার্কেটিং এর কিছু প্রকার সম্পর্কেঃ- 

১- সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন – SEO 

সার্চ  ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর ফলে আপনি সরাসরি ক্রেতার কাছে আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন গুলোকে দেখাতে পারবেন।  আমরা বিভিন্ন সময়ে সার্চ ইঞ্জিন গুলো তে নানান কিছু খুজে থাকি।  ছোট্র করে চলুন দেখে নেই সার্চ ইঞ্জিন সম্পর্কে।  

সা

ডিজিটাল মার্কেটিং
সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেসন

সার্চ ইঞ্জিন কি? 

ইন্টারনেটে হাজার হাজার ওয়েবসাইট রয়েছে।  যেগুলোতে কোটি কোটি তথ্য রয়েছে।  সার্চ ইঞ্জিন গুলো নির্দিষ্ট কী-ওয়ার্ড এর মাধ্যমে আপনার খোজা বিষয় গুলোকে আপনার সামনে নিয়ে আসে।  যেমন- গুগলে আপনি যখন কিছু সার্চ করেন তখন গুগল এর কাছে থাকা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সেগুলা আপনার সামনে তুলে ধরে।  জনপ্রিয় কিছু সার্চ ইঞ্জিন হলো- গুগল,ইয়াহু,বিং ইত্যাদি। 

আরো পড়ুন-

মোবাইল দিয়ে বিকাশে টাকা আয় করার জনপ্রিয় সব মাধ্যম

মনে করুন,  আপনার অনলাইনে একটি ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকান রয়েছে।  এখন, আপনার দোকান সম্পর্কে যদি অনলাইনে কেউ না জানে তাহলে আপনি কিছুই বিক্রি করতে পারবেন না।  কারণ ক্রেতা খুজে পাবেন না।  যদি কোনো ব্যাক্তি সার্চ দেয় “Best Laptop Shop in BD” সেখানে আপনার অনলাইন দোকানের তথ্য যদি না আসে তবে ক্রেতা আপনার কাছে কিভাবে যাবে? 

এখানে আপনাকে মূলত SEO এর কাজ গুলো করতে হবে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর মাধ্যমে আপনার পণ্য গুলোকে মানুষের সামনে নিয়ে আসবে। আমরা যখন কোনো কিছু সম্পর্কে সার্চ করি গুগলে তখন প্রথমে আসা ১০ টি সাইট কে ভিজিট করে থাকি।  সার্চ ইঞ্জিন অপ্টাইমেজসন ভালো ভাবে করতে পারলে আপনি প্রথমে চলে আসতে পারবেন। 

২- সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং 

বর্তমানে প্রায় সকলেই সোশ্যাল মিডিয়া তে অনেক বেশী একটিভ। সোশ্যাল মিডিয়া হলো মার্কেটিং এর জন্য সবচেয়ে সহজ ও ভালো একটি মাধ্যম।  সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভালোভাবে মার্কেটিং করা যায়। প্রচুর পরিমানে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম রয়েছে যেগুলোতে আপনি এডস এর মাধ্যমে সঠিক কাস্টমারের কাছে পৌছে যেতে পারবেন। 

ডিজিটাল মার্কেটিং
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

৩- ই-মেইল মার্কেটিং 

ই-মেইল এর মাধ্যমে অনেক সহজেই আমরা নির্দিষ্ট কাস্টমার টার্গেট করতে পারি।  বিশেষ করে,  বিভিন্ন বিষয়ের উপরে প্রচুর পরিমানে ইমেইল ডাটা ক্রয় করা যায়৷  ধরুন, আপনার একটি এসএইও সংস্থা আছে।  এখন আপনি যাদের অনলাইনে ওয়েবসাইট রয়েছে তাদের ই-মেইল গুলো সংগ্রহ করে।  তাদের কে আপনার সংস্থা ও আপনাদের সুজোগ সুবিধা গুলো জানিয়ে ইমেইলে মার্কেটিং করে নিতে পারেন।  

৪- ভিডিও মার্কেটিং 

আপনার পণ্যের গুনগত মান নিয়ে কাস্টমারের অনেক ধরণের প্রশ্ন থাকতেই পারে।  এ ক্ষেত্রে আপনি আপনার পণ্যের ভিডিও তৈরি করে কাস্টমার কে আকর্ষিত করতে পারবেন।  ভিডিও মার্কেটিং এর জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউব অনেক বড় প্লাটফর্ম।  যে খানে প্রচুর পরিমানে মানুষ প্রতিদিন ভিজিট করে।  

আরো পড়ুন-

অনলাইন থেকে আয় করার ৫ টি উপায় – বিস্তারিত জানুন

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হয়েছে লাইভ সিস্টেম।  যেখানে আপনি লাইভে গিয়ে আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন করতে পারেন। আমরা অনেক সময়েই সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখি লাইভে এসে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি ও মার্কেটিং করতে।  

৫- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং 

ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যতম একটি বিষয় হলো এটি।  যার মাধ্যমে আপনার কোনো পণ্য না থাকলেও অন্যের পণ্যের মার্কেটিং করে অনলাইন থেকে টাকা আয় করতে পারবন।  এ ক্ষেত্রে এমাজন বর্তমানে সেরা।  এমাজন এর পণ্যের মারেকেটিং করে আপনি সহজেই টাকা আয় করতে পারবেন।  

৬- কনটেন্ট মার্কেটিং 

অনলাইনে বিভিন্ন ধরণের কন্টেন্ট তৈরি করলে সেখানে প্রচুর পরিমানে ট্রাফিক পাওয়া যায়।  যত বেশী ট্রাফিক আসবে তত বেশী পরিমানে আপনার বিজ্ঞাপন এর পরিমান বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে আপনি যে কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন আপনার কন্টেন্ট এর মাঝে দিতে পারবেন।  

৭- পে-পার ক্লিক (PPC

পে পার ক্লিক হলো পেইড বিজ্ঞাপন।  আমরা অনেক সময়ে গুগলে যখন কিছু সার্চ করি তখন সবার উপরে কিছু সাইটে আছে।  যার পাশে লেখা থাকে (Ad)। তখন অই সাইট গুলোতে যত ক্লিক করবে সে অনুযায়ী টাকা দিতে হবে গুগল কে। পে পার ক্লিক এর জন্য Google Adwords সবচেয়ে ভালো।  

ডিজিটাল মার্কেটিং
পে-পার ক্লিক

৮- ইনবোন্ড মার্কেটিং – Inbound Marketing 

এটির মাধ্যমে অনলাইনে পণ্যের একটি ফানেল তৈরি করে সেখানে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হয়।  বিশেষ করে কোনো পণ্যের বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা দেয়ার জন্য পণ্যের ফানেল তৈরি করা হয়।  

আরো পড়ুন-

ফটো এডিট করার ভালো এপ্স কোনটি – Best 5 Photo Editing Apps

৯- ন্যাটিভ বিজ্ঞাপন 

ন্যাটিভ বিজ্ঞাপন হলো অন্যান্য প্লাটফর্ম গুলোতে বিজ্ঞাপন প্রদান করা।  যখন আমরা ইউটিউবে কোনো ভিডিও চালু করে থাকি তখন বিভিন্ন এডস আমাদের সামনে আসে।  এ ধরনের বিজ্ঞাপন গুলোকে ন্যাটিভ বিজ্ঞাপন বলে৷  যত বেশী ন্যাটিভ বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন ঠিক তত বেশী মানুষ আপনার পণ্য সম্পর্কে জানতে পারবে। 

১০- অনলাইন পি আর – Online PR

অনলাইনে পি আর এর মাধ্যমে ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে মার্কেটিং এর সুবিধা পাওয়া যায়।  কনটেন্ট,  ব্লগ ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে শুধুমাত্র অনলাইনে PR মার্কেটিং করা যায়।  

ডিজিটাল মার্কেটিং এর কৌশল কি? 

ডিজিটাল মার্কেটিং এর ও অনেক কৌশল রয়েছে৷  যেগুলোর মাধ্যমে আপনি অনেক কিছু অর্জন করতে পারবেন।  যেমন- 

  • আপনার একটি ওয়েবসাইট। 
  • ব্লগ পোষ্ট 
  • কনটেন্ট 
  • ইনফোগ্রাফিক্স
  • সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেল ( ফেসবুক, ইউটিউব, লিংকদিন ইত্যাদি)।
  • অনলাইন কাভারেজ।
  • ব্রান্ডিং 

ডিজিটাল মার্কেটিং গুরুত্বপূর্ণ কেন? 

বর্তমানে প্রায় সকল মানুষের মধ্যে ডিজিটাল এর ছোয়া বয়ে গেছে৷  এখন মানুষ অনেক কম মার্কেটে গিয়ে জিনিসপত্র ক্রয় করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অনলাইনের মাধ্যমে কোনো পণ্য ক্রয়ের জন্য বেশী আগ্রহী হয়।  সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে মানুষের কাছে অনেক বেশী তথ্য থাকে।  

ডিজিটাল মার্কেটিং
ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্ব

ইন্টারনেটে হাজার হাজার তথ্যের কারণে এখন কাউকে তাদের বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকতে হয়না।  সে চাইলেই অনলাইন এর মাধ্যমে অনেক বেশী তথ্য গুলো জেনে নিতে পারে।  বাস্তব জীবনে যেমন মানুষ একটি বিশ্বাসযোগ্য কোম্পানি থেকে পণ্য ক্রয় করে।  ঠিক তেমনি ভাবে অনলাইনেও চায় বিশ্বাসযোগ্য একটি ভালো কোম্পানি।  

যেখানে তাদের চাহিদা সম্পুর্ন করে দিতে পারবে।  যেখান থেকে তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সহজেই ক্রয় করতে পারবে।  মানুষের সমাগম এখন অনলাইনেই বেশি দেখা যায়।  তাই আপনি আপনার পণ্যের প্রচারণা অনলাইনে না করলে সে ক্ষেত্রে আপনার বিক্রি অনেক কম হবে।  তাই প্রচারণা বাড়াতে ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা লক্ষ্য করা যায়। 

ক্যারিয়ার হিসেবে ডিজিটাল মার্কেটিং কেমন হবে?

অনেকেই আছেন সফল ডিজিটাল মার্কেটার।  কিন্তু তাদের উদাহরণ দিয়ে লাভ নেই।  এই সেক্টরে কতটুকু সফলতা পাবেন সেটা নির্ভর করে আপনার যোগ্যতার উপরে।  আপনার যোগ্যতার ব্যবহার যত বেশি আপনার সফলতার হার ও তত বেশী হবে। ক্যারিয়ার হিসেবে ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করবেন দেখে নিন- 

১- B2B কোম্পানির এর ক্ষেত্রে   

আপনার কোম্পানি যদি B2B হয়ে থাকে তাহলে আপনার প্রধান কাজ হলো অনলাইনে লিড জেনারেসন তৈরি করা৷  যেখানে আপনাকে আপনার কাস্টমার এর সাথে কথা বলতে হবে।  তাকে বুঝাতে হবে আপনার পণ্য কেন অন্যদের চেয়ে বেশি ভালো।  এই ধরণের মার্কেটিং খুব ভালোভাবে করতে হবে।  অন্যথায় ক্রেতা পাওয়া অনেক বেশি কস্ট হবে। 

আরো পড়ুন-

কোন দেশের টাকার মান বেশি – কুয়েতের টাকার মান বেশী কেন 2022

২- B2C কোম্পানি এর ক্ষেত্রে 

যদি আপনার প্রতিষ্ঠান B2C হয় তাহলে আপনার লিড জেনারেসন করার প্রয়োজন নেই।  এই ক্ষেত্রে ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য আপনার ওয়েবসাইটে অনেক বেশি ভিজিটর নিয়ে আসতে হবে।  এবং ওয়েবসাইটে এমন ভাবে পণ্য গুলোকে সাজিয়ে রাখতে হবে। যেন ক্রেতা আসার পরে সে সহজেই কেনা-কাটা করার জন্য আগ্রহী হয়ে যায়।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধা – Benefit of Digital Marketing

এনালগ মার্কেটিং এর তুলনায় ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধা গুলো রিয়েলটাইম পর্যবেক্ষণ করা যায়।  যেমন ধরুন,  আপনার বিজ্ঞাপন গুলো কতজন মানুষ দেখেছে,  কত জন মানুষ আপনার পণ্য গুলো সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হচ্ছে, কত জন ক্রয় করতে চাচ্ছে ইত্যাদি সব কিছু আপনি সহজেই দেখতে পারবেন।  

লিড জেনারেসন এর মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতার সাথে যোগাযোগ করে তাদের ভুল ভ্রান্তি গুলো কে বুঝাতে পারবেন।  কোনো প্রকার সমসায় পড়লে সেটার সমাধান করে দিতে পারবেন।  এতে করে আপনার কোম্পানির প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হবে।  আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে নিচে কিছু উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছিঃ– 

১- ওয়েবসাইট ট্রাফিক এনালাইটিক্স

বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটে কি পরিমান ট্রাফিক এসেছে এগুলা রিয়েল টাইম লাইভ দেখতে পারবেন৷  ট্রাফিক কোন কোন পণ্য গুলোকে বেশি পরিমানে দেখার চেষ্টা করছে।  কোন পণ্য গুলো সম্পর্কে তারা পজিটিভ ধারণা পোষন করে ইত্যাদি সব কিছুই দেখা অনেক বেশি সহজ।  

ডিজিটাল মার্কেটিং
ট্রাফিক এনালাইটিক্স

২- কাস্টমার সাপোর্ট সুবিধা 

লিড জেনারেসন তৈরির মাধ্যমে সর্বদা কাস্টমার কে সাপোর্ট সুবিধা দিতে পারবেন।  কোনো  বিস্তারিত ভালোভাবে জানতে চায়৷  এ ক্ষেত্রে আপনার সাপোর্ট সুবিধা যদি সে পায় অনেক বেশি আস্থা পাবে ও পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে আগ্রহী হবে। 

৩- এট্রিবিউসন মডেলিং 

এটার মাধ্যমে আপনি ট্রেস করতে পারবেন একজন ক্রেতার ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে।  সে কি চায়,  কোন পণ্য গুলো চায়,  কোন মান গুলো তাকে দিতে হবে।  অর্থাৎ আপনি কাস্টমার এর মন কি চাচ্ছে সেটা অনুধাবন করতে পারবেন।  

আরো পড়ুন-

১ লাখ টাকায় ব্যবসা – যে 6 টি ব্যবসা করলে বেশী লাভবান হবেন

ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য কি ধরণের কনটেন্ট বানাবেন? 

ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য আপনাকে কন্টেন্ট তৈরি করা শিখতে হবে।  বিভিন্ন ধরণের কনটেন্ট থাকলেও মূলত আপনার জন্য কি ধরণের বানাতে হবে সে সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিতে হবে।  আপনার কনটেন্ট যদি আপনার পণ্যের সাথে অমিল হয় সে ক্ষেত্রে ক্রেতা কে আগ্রহী করে তুলতে পারবেন না।  নিচে থেকে জেনে নিন কি ধরণের কনটেন্ট তৈরি করতে হবে – 

ডিজিটাল মার্কেটিং
কি ধরণের কনটেন্ট বানাবেন

আকর্ষণীয় করার জন্য 

  • ওয়েবসাইট ব্লগ পোষ্ট 

আপনার ওয়েবসাইটে পোষ্টের মাধ্যমে অধিক ভিজিটর নিয়ে আসতে পারবেন।  এ ক্ষেত্রে আর্টিকেল দিতে হবে প্রচুর পরিমানে।  আর্টিকেল কনটেন্ট এর উপর ভিত্তি করে আপনার পণ্যের মার্কেটিং করে দিতে হবে। 

  • ইনফোগ্রাফিক্স

সোশ্যাল মিডিয়া তে যে ধরণের কনটেন্ট গুলো অনেক বেশি মানুষ পছন্দ করে। সে ধরণের কনটেন্ট গুলো বানাতে হবে।  

  • শর্ট ভিডিও

ছোট ভিডিও গুলো অনেক বেশি মানুষ পছন্দ করে দেখার জন্য৷  আপনার পন্যের ছোট ভিডিও গুলো সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলোতে দিতে পারেন।  সেখান থেকে অনেক ট্রাফিক পাওয়া যাবে। 

কাস্টমার সহায়তার জন্য 

  • ই-বুক 

অনলাইনে ই-বুক অন্যতম সেরা কনটেন্ট।  এর মাধ্যেম আপনি বুঝতে পারবেন কাস্টমার কোন বই গুলো পড়তে চায়। অনলাইনে চাহিদা সম্পন্ন কনটেন্ট এর মাঝে এটি একটি।  

  • রিচার্স পেপারস

অনলাইনে বিভিন্ন ধরণের রিচার্স পেপারস এর চাহিদা অনেক বেশি।  সহজেই অধিক কাস্টমার পেতে এই ধরণের কন্টেন্ট বানানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে৷  

  • ওয়েবিনারস

হেল্পফুল ভিডিও কনটেন্ট এর মাধ্যমে অনেক ট্রাফিক নিয়ে আসতে পারবেন।  অনলাইনে হেল্পফুল ভিডিওর চাহিদা ব্যাপক রয়েছে।  

ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স – Digital Marketing Course

ডিজিটাল মার্কেটিং
জনপ্রিয় ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স

ডিজিটাল মার্কেটিং ভালোভাবে শেখার জন্য নিচে দেয়া বিষয় গুলোর উপরে বিস্তারিত ভাবে কোর্স করার চেষ্টা করুন- 

  • সিডিএম এম – CDMM
  • সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন – SEO
  • এস এম এম – SMM
  • ই-মেইল মার্কেটিং 
  • ইনবন্ড মার্কেটিং 
  • ওয়েব এনালাইসিস 
  • মোবাইল মার্কেটিং 

কোথায় শিখবেন ডিজিটাল মার্কেটিং

দেশে প্রচুর পরিমানে আইটি প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।  যেখানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপরে খুব ভালোভাবে শেখানো হয়।  আপনাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিয়ে যে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার জন্য ভর্তি হতে পারেন।  

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন উত্তর

ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে কি বুঝায়?

ডিজিটাল মার্কেটিং হলো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে কোনো কিছুর বিজ্ঞাপন প্রদান করা। যেমন- মোবাইল, রেডিও, টিভি, ইন্টারনেট ইত্যাদি মাধ্যমে কোনো কিছুর প্রচারনা করা হলো ডিজিটাল মার্কেটিং।

আমাদের শেষ কথা 

ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত তুলে ধরেছি আজকের আর্টিকেলে।  এর পরেও যদি আপনাদের কোথাও বুঝতে অসুবিধা হয়ে সে ক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজে।  আমাদের ফেসবুক পেজ Eduitseba তে যুক্ত হয়ে নিন। 

About admin

In a world where you can have everything. Be a giver first. My hobbies are writing , gaming, and SEO 😊

View all posts by admin →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *