কবর জিয়ারত করার নিয়ম

কবর জিয়ারত করার নিয়ম

কবর জিয়ারত করার নিয়ম– মানুষ মৃত্যুর পরে যে স্থানে দাফন করা হয় তাকে কবর বলে। পৃথিবীর মধ্যে কবর এমন একটি স্থান যা কিনা আখেরাতের সব চেয়ে কাছের জায়গা। সেখানে গেলেই মনে হবে যে আমাদের মৃত্যু বা আমাদের আখেরাত কতো টা কাছে। কবর জিয়ারত করলে আমাদের মানুষিক অনেক পরিবর্তন ঘটে। আল্লাহ ভয় সৃষ্টি হয়। আল্লাহর উপর বিশ্বাস দৃঢ় হয়।

আখেরাতের প্রতি ভয় ও বিশ্বাস স্থাপন হয় মানুষ তখন অনুভূতি করতে পারে যে আমাদের ও একদিন এই জায়গায় আসতে হবে। আমরাও একদিন এখানের বাসিন্দা হবো। তাতে করে মানুষের ঈমান শক্ত হয়। মানুষের মনে এমন অনুভূতি হয় যে নামাজ না পরলে রোজা না রাখলে ইসলামের কাজ গুলো না করলে আমরা কবরে কি জবাব দিবো। এতো নামাজ রোজার প্রতি ও অনেক গুরুত্ব বাড়ে।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের ফজিলত ও সময়সূচী

তাই আমাদের উচিত আমাদের যাদের আত্মীয় স্বজন মারা গেছে যেমন, মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি চাচা-চাচি যারা আমাদের বাড়ির আসে পাসে বাস বাগানের নিচে, মসজিদের পাসে শুয়ে আছে তাদের কবরের পাশে গিয়ে দোয়া দুরুদ পরে তাদের জন্য দোয়া করার মতো সময় বা মন মানুষিকতা তৈরি করতে পারি সেই তাওফিক আল্লাহ আমাদের সকল মুসলমান কে দান করুন আমিন।

আজকে আমরা জানবো কিভাবে কবর জিয়ারত করতে হয়? কবর জিয়ারত করলে এর ফজিলত কি?  এতে কবরের বাসিন্দাদের কি উপকার হয়? নবী করিম সঃ কবর জিয়ারত সম্পর্কে কি বলেছেন? কবর জিয়ারত করার নিয়ম,  ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

কবর জিয়ারতের নিয়ম-নিয়ত

আমাদের যাদের মা-বাবা মৃত্যু বরন করেছে তারাই জানি, যে মা বাবা হারানোর ব্যথা কি। আর তারা পরকালে কি অবস্থায় আছে তা তো আমরা জানি না। কিন্তু আমরা যদি তাদের কবর আজাব কে কমাতে চাই বা তাদের কবরে শান্তি চাই তাহলে আমাদের উচিত কম পক্ষে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ জুমার নামাজ আদায় করে তাদের কবরের পাশে গিয়ে যেন তাদের জন্য দোয়া করি।

জুমার নামাজের নিয়ত, নিয়ম ও ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত

পারলে প্রতি দিন করতে পারি তাহলে তাদের কবরের আজাব কম হবে বা আল্লাহ খুশি হয়ে তাদের কবর আজাব কে মাফও করে দিতে পারে। প্রথমে, তাদের কবরের পাশে গিয়ে কবর জিয়ারতের দোয়া পাঠ করতে হবে তারপর দরুদ শরিফ পাঠ করতে হবে তার পর সূরাহ ফাতেহা, সূরাহ ইখলাস আরো অন্য অন্য শুরা পাঠ করতে হবে তারপর তাদের রুহের মাগফেরাতের উদ্দেশ্য করে তা তাদের নামে দান করে দিতে হবে এতে করে তাদের কবর আজাব মাফ হয়। আমাদের সকল মুসলমানদের তাদের মা বাবা জন্য কবর জিয়ারত করে তাদের জন্য দোয়া করার তাওফিক দান করুন আমিন।

কবর জিয়ারত করার নিয়ম

কবর জিয়ারত করার সময় উপারুক্তি দোয়া গুলো পরে যখন দোয়া করবেন তখন সরাসরি কবরের দিকে মুখ না ফিরিয়ে যেন কবর থেকে মুখ ফিরিয়ে কবরকে পিছনে রেখে দুই হাত তুলে দোয়া করি। আর যদি কেহ হাত তুলে দোয়া না করে মুখ কবর থেকে না ফিরিয়ে মনে মনে দোয়া করে তাহলেও দোয়া করা হবে।

সহীহ হাদিস কাকে বলে – হাদিস সহিহ হওয়ার 5 টি শর্ত?

নবী করিম (স) এর জামানায় প্রথম দিকে কবর জিয়ার নিষিদ্ধ ছিল পরে নবী করিম (সঃ) আবার কবর জিয়ারত করার জন্য বলেছেন এবং নিজেও কবর জিয়ারত করতেন। নবী করিম সঃ বলেন, কবর জিয়ারত করলে আখেরাত মুখি হওয়া যায় আর ঈমান আমোল ও ঠিক হয় তাই কবর জিয়ারত করার আদেশ করেন।

কবর জিয়ারতের ফজিলত

কবর জিয়ারত করলে আমাদের অনেক উপকার হয়। কেননা এতে করে আমাদের আখেরাতের চিন্তা বাড়ে। পরকালের উপর অনেক ঈমান মজবুত হয়। নবী করিম (সঃ) বলেন কবর জিয়ারত করলে আখেরাত মুখি হওয়া যায় তাই আমাদের উচিত বেশি বেশি কবর জিয়ারত করা। এতে করে কবরের বাসিন্দা দের ও অনেক লাভ হয়। তারা যদি কবরে কষ্টে থাকে তাহলে তাদের কবর আজাব মাফ হয় তাদের কবরে শান্তি পায়। তাই আমরা যেন বেশি বেশি করে কবরের চিন্তা করি এবং আমরা কবরে কি ভাবে থাকবো এটার চিন্তা করে আমাদের ছেলে বা ছোট ভাই কে নিয়ে আমরা কবর জিয়ারতে যাবো। এতে করে আমাদের মৃত্যুর পরে ওরাও আমাদের কবর জিয়ারত করে, এমন শিক্ষা তাদের কে দিবো।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম – 2022

শেষ কথা

কবর জিয়ারত করার নিয়মঃ আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন আমাদের কে পরকালের প্রতি বিশ্বাস এবং পরকালে কি আমল নিয়ে যাবো। আমরা কবরে কি ভাবে থাকবো এসব নিয়ে চিন্তা করার মতো তাওফিক দান করুন আমিন। আর সবাইকে নামাজি বানিয়ে দিন সবাইকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার মতো মন মানুষিকতা তৈরি করে দিন আমিন।

About admin

In a world where you can have everything. Be a giver first. My hobbies are writing , gaming, and SEO 😊

View all posts by admin →

Leave a Reply

Your email address will not be published.